দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের (জিপি) পরিচালনা পর্ষদ চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসের (জানুয়ারি-জুন) মুনাফার ভিত্তিতে ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ শেয়ারে ১২ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পাবেন। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত যাদের কাছে গ্রামীণফোনের শেয়ার থাকবে, তারা এ লভ্যাংশ পাবেন। 

আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএসইর কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিপি এ সময়ে তার কর-পরবর্তী মুনাফার ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৬ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৮২ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৮৯ পয়সা। ছয় মাসের হিসাবে জিপির ইপিএস কিছুটা কমলেও সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) বেড়েছে। এ সময়ে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮২ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। প্রথম ৬ মাসে জিপির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালনগত নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৬১ পয়সা। অন্যদিকে, নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ৩৭ টাকা ২৫ পয়সা হয়েছে।

এদিকে, সোমবার জিপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি ৭ হাজার ৪২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৯ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে, যার ফলে বছরের প্রথম ৬ মাস শেষে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৪৬ লাখ। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৪ কোটি ৬২ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, 'নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি ও তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ধারাবাহিকভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ২০২২ সালের প্রথমার্ধ শেষে আমাদের মোট ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০০। আমাদের ফোরজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। গ্রামীণফোন উদ্ভাবন, নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আমরা অনুমোদিত সর্বোচ্চ পরিমাণ তরঙ্গ অধিগ্রহণ করেছি। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে সেবার মান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনে অবদান রাখবে; পাশাপাশি, শহর ও গ্রামাঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।'

গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, '২০২২ সালের প্রথমার্ধে রাজস্ব এবং ইবিআইটিডি (সুদ, কর, অবচয় এবং ঋণ পরিশোধ পূর্ববর্তী আয়) প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রয়েছে। আমাদের পারফরমেন্সের সামগ্রিক উন্নয়নে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। বান্ডেলের ব্যবহার গত বছরের চেয়ে ১০০ শতাংশ বেড়েছে।'

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক কাভারেজে উন্নয়ন ও বিস্তৃতিতে ৫৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনের মোট সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪৩৯। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, ডিউটি, ফি, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ বরাদ্দ ফি বাবদ ৫ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ।