টানা দশম দিনে গড়াল শেয়ারবাজারের দরপতন। গত কয়েকদিনে লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটে বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ সোমবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই দরপতন শুরু হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১১টায় লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টা পর প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৫ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩০৫টিকেই দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৭ শেয়ার।

এর মধ্যে অন্তত দেড়শ কোম্পানির শেয়ারদর আজকের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনি¤œ দরে নেমেছে। এমন দরেও এসব শেয়ারের ক্রেতা ছিল না।

টানা দরপতনে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এক বছরেরও বেশি সময় ফের ৬০০০ পয়েন্টের মাইলফলকের নিচে নেমে এসেছে।

গতকাল সূচকটির ক্লোজিং অবস্থান ছিল ৬০৫২ পয়েন্ট। এ অবস্থান থেকে আজ যাত্রা শুরু করে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ৬৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৮৬ পয়েন্টে নেমেছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় ৬০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৯১ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এ সময় পর্যন্ত এ বাজারে কেনাবেচা হয় ১৪৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল এ সময় পর্যন্ত ২২৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

এদিকে মূল শেয়ারবাজারের দরপতনের বিপরীতে বিপরীত অবস্থায় থাকা স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর বিকল্প বাজার এসএমই বোর্ডের শেয়ারদর ও সূচক ব্যাপকভাবে চাঙ্গা ছিল। গত কয়েক দিনে এ বাজারেও দরপতন শুরু হয়েছে।

আজ এ বাজারের তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলোর দরপতন হয়েছে। এতে এ বাজারের সূচক ডিএসএমইএক্স বেলা সাড়ে ১১টায় প্রায় পৌনে ৪ শতাংশ পতন হয়ে ১৮৬২ পয়েন্টে নেমেছিল।

বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা এ অবস্থার কারণ হিসেবে বলেন, কারসাজি এ বাজারকে শেষ করে দিয়েছে। কারসাজি করে কিছু মানুষ যখন শত শত কোটি টাকা বাগিয়ে নিচ্ছিল, তখন বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বাজারের উত্থানকে তাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বলে প্রচার করে বাহবা কুড়িয়েছে। কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাতো নেইনি, উল্টো তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে অবৈধ আয়ের পথ সুগম করে দিয়েছে। তাতে গুটিকয় লোক লাভবান হলেও এখন ক্ষতির মুখে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।