সবচেয়ে বড় কারসাজির চক্রের হোতাদের (গ্যাম্বলার) সহায়তায় শেয়ারবাজারের দরপতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত সোমবার শীর্ষ গ্যাম্বলারদের সঙ্গে বৈঠকের দিন পতনের ধারা থেকে বেরিয়ে বেড়েছিল শেয়ারদর ও সূচক। কিন্তু তা দুইদিনও টিকল না।

আজ প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রথম দেড় ঘণ্টার লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ২ মিনিটে প্রধান মূল্য সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬১২০ পয়েন্টে উঠেছিল। এর ২৩ মিনিট পর ১০টা ২৫ মিনিটে আগের অবস্থান থেকে ৬১ পয়েন্ট (গতকালের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট) হারিয়ে ৬০৫৯ পয়েন্টে নামে।

লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় সূচকটি গতকালের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ সময় মাত্র ৬০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৮২টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৬ শেয়ার। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ২৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

এর আগে টানা নয়দিনে ডিএসইএক্স সূচক ৩৪০ পয়েন্ট হারানোর পরও গত সোমবার সকালে দশম দিনেও বড় দরপতন দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছিল। প্রথম ঘণ্টার দরপতনে সূচক হারিয়েছিল ৬৭ পয়েন্ট। কিন্তু ওই অবস্থা থেকে ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, নাটকীয় ওই পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিল ওইদিন শীর্ষ গ্যাম্বলারদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের খবর।

পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সিংহভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণে সোয়া এক ঘণ্টায় সূচক বৃদ্ধিতে সেঞ্চুরি হয়েছিল। বেড়েছিল ১০৩ পয়েন্ট। কিন্তু এর পর অনেকে শেয়ার বিক্রি করতে থাকলে সূচকও নিম্নমুখী হয়। লেনদেন শেষ হয় সূচকের ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি দিয়ে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে লাগাতার দরপতনে সময় শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক বা তাদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি করণীয় নির্ধারণে পরামর্শ নিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এবারই প্রথম সবাইকে অবাক করে ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীদের নাম করে শীর্ষ গ্যাম্বলারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আবুল খায়ের হিরো, মিজান, সাইফুল্লাহ, বিশ্বজিত, আবু সায়েমসহ বেশ কয়েকজন অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। 

বিষয়টি এমন যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করলে যেমনটি দাঁড়াবে গ্যাম্বলারদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকটি তেমনই।

যাদের নিয়ে কমিশন বৈঠক করেছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারসাজির অভিযোগ আছে। এর আগে কমিশন জরিমানা করেছে হিরো সরকারি কর্মকর্তা। অভ্যাসগতভাবে শেয়ার কেনাবেচা করার বিষয়ে তার ওপর সরকারি বিধি-নিষেধ আছে। কিন্তু গত দুই বছরে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় গ্যাম্বলার সে। এক মাসেরও কম সময় আগে, তাকে বাদ দিয়ে তার স্ত্রী ও নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নামমাত্র জরিমানা করেছিল বিএসইসি। সায়েম ২০০৯-২০১০ সালের কারসাজির বড় হোতা- সে সময় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তার নাম আছে।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ‘বড় বিনিয়োগকারী’র নাম করে আসলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘গ্যাম্বলার’ দের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ বাজারকে এ বার্তা দিয়েছে যে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার গ্যাম্বলারদের বাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের সঙ্গে আছে।

তিনি বলেন, ওই বৈঠক দিয়ে কিছু অনলাইন পোর্টালে খবরে পড়েছি- ওই গ্যাম্বলাররা দাবি করেছেন, তাদের ভুল-ত্রুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেনো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। এ কথার অর্থ হলো- তারা শেয়ার কারসাজি করলে সংস্থাটি তা নিয়ে যেনো প্রশ্ন না তোলে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়। এমনটি হলে এখানে প্রকৃত কোনো বিনিয়োগকারী কেনো বিনিয়োগ করতে আসবেন- প্রশ্ন তাদের।