বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে মূল শেয়ারবাজারে অন্তত ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। বুধবার নিয়মিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

মূল শেয়ারবাজারে যখন ব্যাপক দরপতন চলছে, তখন এসএমই বোর্ডের গুটিকয় শেয়ারের অস্বাভাবিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে সমালোচনা পড়ে এ নিয়ম করেছে সংস্থাটি।

এর আগে সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে কারো বিনিয়োগ মূল্য ২০ লাখ টাকা থাকলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারতেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, এ নিয়ম বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। যাদের ইতিপূর্বে এ বাজারে কোনো বিনিয়োগ ছিল না, প্রথমে তাদের জন্য এ নিয়ম কার্যকর হবে।

তবে যারা বুধবার বা তার আগে বিনিয়োগ করেছেন, তারা আগামী তিন মাস কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এরপর এ বাজার থেকে শেয়ার কিনতে হলে মূল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ মূল্য ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত না করে সে সুযোগ পাবেন না। তবে তখনও তার বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার থাকলে বিক্রি করতে পারবেন।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির পৃথক শেয়ারবাজার গড়তে ২০১৯ সালের ৩০ জুন 'কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরস অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানিজ ২০১৮' নামে বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছিল বিএসইসি।

শুরুতে ওই বিধিমালা অনুযায়ী, এসএমইর শেয়ারবাজারের ঝুঁকি বিবেচনায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের এ বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হয়। নিয়ম করা হয়- মূল বাজারে কমপক্ষে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ থাকলে কেবল এ বাজারে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ থাকবে। এবং আগে থেকে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে নিবন্ধন নিতে হবে। এর মূল বাজারে এর কম বিনিয়োগ নিয়ে কেউ এসএমইর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন না।

বাজারটি চালুর পর বর্তমান কমিশন প্রথমে তা ৫০ লাখ টাকায় এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ২০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনে। উদ্দেশ্য ছিল এ বাজারে বেশি সংখ্যক বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া।

এ নিয়মের পর গত মার্চের পর হু হু করে এসএমই বোর্ডের শেয়ারগুলোর দর বাড়তে থাকে। মাত্র সাড়ে চার মাসে এ বাজারের মূল্য সূচক ডিএসএমইএপ ৫৯৩ পয়েন্ট থেকে ২১০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। যদিও একই সময়ে মূল শেয়ারবাজার সূচক ডিএসইএপ ৬৮০০ পয়েন্ট থেকে ৬০০০ পয়েন্টের নিচে নামে।