দরপতন আবারও মাত্রা ছাড়িয়েছে শেয়ারবাজারে। 

বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই সিংহভাগ শেয়ারের দরপতনে ক্রেতা শূন্য অবস্থা তৈরি হয়েছে। লেনদেন নেমেছে তলানিতে।

বেলা সাড়ে ১১টায় লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৭৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে এসেছে। এর মধ্যে ৩২১টিরই দরপতন হয়েছে, যা লেনদেনে আসা মোট শেয়ারের ৮৬ শতাংশ।

দর হারানো শেয়ারগুলোর মধ্যে অন্তত ২০০ কোম্পানির শেয়ারের কেনো ক্রেতা নেই। যেসব শেয়ারের ক্রেতা ছিল, তার পরিমাণও ছিল বিক্রেতার তুলনায় নগণ্য।

এ সময় মাত্র ২১ শেয়ারের দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে, যা মোটের ৬ শতাংশের কম। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩১টি শেয়ার।

দরপতনের কারণে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৭০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচকের এ অবস্থান গত বছরের ২৫ মের পর বা প্রায় সোয়া এক বছরে সর্বনি¤œ।

দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শেয়ারদরের নিচের সার্কিট ব্রেকার মাত্র ২ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে বেশি সূচক করার খুব একটি সুযোগ নেই।

বুধবারের পরিস্থিতিও ছিল একই রকম। মাত্র ১৭ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে বাকি প্রায় সব শেয়ার দর হারিয়েছিল। ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছিল ৭৪ পয়েন্ট।

১২ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে ৩১৪ পয়েন্ট। ২৫ জুলাই দশম দিনের সকালেও বড় দরপতন হয়েছিল। সিংহভাগ শেয়ার দর হারানোয় সূচক ৬৭ পয়েন্ট হারিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় পর ৬০০০ পয়েন্টের মাইলফলকের নিচে নেমেছিল।

তবে ওইদিন ওই অবস্থা থেকে ১১৫ পয়েন্ট বেড়ে গিয়ে আগের দিনের তুলনায় ৪৭ পয়েন্ট পয়েন্ট উপরে উঠে যায় ডিএসইএক্স সূচক। যদিও ক্লোজিং পয়েন্টের হিসেবে ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

নাটকীয় ওই পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিল দেশের শেয়ারবাজারের শীর্ষ জুয়াড়ি বা গ্যাম্বলারদের সঙ্গে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এর প্রভাবে ২৬ জুলাই লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই সিংহভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পেলে সূচকের বৃদ্ধিতে সেঞ্চুরি হয়েছিল। ১০৩ পয়েন্ট বেড়েছিল সূচকটি। তবে শুরুর তেজিভাব শেষ পর্যন্ত টেকেনি। বিক্রির চাপে সূচক শেষ পর্যন্ত ২৯ পয়েন্ট দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে। যখন কোনো শেয়ারের দর একটু বাড়ছে, তখন লোকসান নিয়ে বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্রেতা সংকটে যে সুযোগও পাচ্ছেন না অনেকে। অনেকের লোকসান এতটাই বেড়েছে যে তারা এখন আর বিক্রির চিন্তাও করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পরিস্থিতি নাজুক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। প্রায় সব শেয়ার ক্রেতা শূন্য অবস্থা। ফলে লেনদেনও কমেছে।

এ মার্চেন্ট ব্যাংকারের কথার সত্যতা মিলল আজকের লেনদেনের পরিমাণ দেখে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে মাত্র ১১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গতকাল একই সময়ে কেনাবেচা হয়েছিল ২৬১ কোটি টাকার শেয়ার। তার আগের দিন ৩৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

চট্টগ্রামকেন্দ্রীক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে এ সময় পর্যন্ত মাত্র আড়াই কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। মাত্র ১০ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৭ শেয়ারই দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।