ক্রয় মূল্যই হবে ‘বাজার মূল্য’- বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসেব করার ক্ষেত্রে এমন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(ক) ধারায় ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দেওয়ার পর এমন মত দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ মত জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ফিরতি চিঠি দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

২০১৩ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন করে এ নিয়ম করার পর থেকে এতদিন কোনো ব্যাংক যে মূল্যেই শেয়ার কিনুক না কোনো, ওই শেয়ারের সর্বশেষ বাজার মূল্যের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ মূল্য কত আছে, তা হিসাব করা হত। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার পর এখন ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ মূল্য হিসাব হবে শেয়ারের ক্রয় মূল্যের ভিত্তিতে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের এমন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তের খবরে আজ বুধবার ব্যাপক উত্থানে শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। লেনদেনের আধা ঘণ্টার মধ্যে সূচকে সেঞ্চুরি হয়েছে।

আজ সকাল ১০ লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩৫৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকের ধারণা, এ নিয়মের ফলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ করার সুযোগ বাড়বে।

এমনকি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও তাই মনে করে। এই মনে করা থেকে বিএসইসির বর্তমান নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরোধিতা সত্তে¡ও অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে পরিবর্তন চেয়ে তদবির করে আসছিল।

বাস্তবে পুরনো ব্যাংকগুলো এই আইনের ফলে উল্টোটাই হবে জানিয়েছেন একাধিক ব্যাংকের সিএফওরা।

তারা জানান, ইতিপূর্বে তাদের বিনিয়োগ মূল্য বেশি ছিল। এমনও শেয়ার কেনা আছে, যার ক্রয় মূল্য ছিল ১০০ টাকার বেশি, কিন্তু এখন তার বাজার মূল্য ১০ টাকাও নয়।

এতদিন এসব বিনিয়োগ ‘বাজার মূল্য’ বলতে সর্বশেষ বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা হত বিধায় ব্যাংকগুলো কোনো সমস্যায় ছিল না। নির্দিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারবাজারে মোট বিনিয়োগ মূল্য আইনী সর্বোচ্চ সীমার নিচেই ছিল। নতুন নিয়মের ফলে তাদের এক্সপোজার আইনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছাবে বা অতিক্রম করবে। ফলে সিংহভাগ ব্যাংক তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা হারাবে বা সংকুচিত হবে।

তবে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো এ আইনের সুবিধা পাবে।

তবে লেনদেন সময় বাড়তে শেয়ারদর ও সূচকের সে তেজিভাব কিছুটা কমে এসেছে।

লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩০৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র ৩৪টি এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৪২টি।

এ সময় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। লেনদেন হয়েছিল ৫৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার।