টানা চতুর্থ দিনে দরপতন হলো শেয়ারবাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দরপতন দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা তৎপরতা ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির দিক থেকে। এতে একবার শেয়ারদর ও সূচক বেড়ে আবার কমে। দিনভর এ অবস্থা চলার পর শেষ পর্যন্ত দরপতনেই লেনদেন শেষ হয়। এমন দরপতনে লেনদেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমেছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৬৬টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত থেকেছে ১১৬টির। এর মধ্যে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ৯২ কোম্পানির শেয়ার বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইসে নেমে এসেছে। আর লেনদেনের মাঝে সর্বনিম্ন দর বিবেচনায় ১৫৫ শেয়ার ও ফান্ড ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ২৫০টি, মিউচুয়াল ফান্ড ৩৬টি। অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬১৪৮ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে ১৬৩ পয়েন্ট পতন হলো। অবশ্য দরপতন ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস আরোপের প্রথম সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে প্রায় ৩৩২ পয়েন্ট।

এরপর ক্রমাগত দরপতনে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর মধ্যে নিকট ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফ্লোর প্রাইসের মতো 'সাপোর্ট' থাকার পরও তাদের মধ্যে নতুন করে শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগ্রহ কম। এ কারণে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ক্রমে কমছে। গত সপ্তাহের বুধবার যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, এখন তা ৬০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।

এ পরিস্থিতিতে বেশি সমস্যায় আছেন মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারে যাঁরা বিনিয়োগ করেছেন। গত কয়েক মাসের দরপতনে অনেক শেয়ারের দর ১৫-৩০ শতাংশ কমেছে। মার্জিন ঋণের সুদ সমন্বয়ের কারণে এসব বিনিয়োগকারীর ক্ষতি আরও বেশি। এ অবস্থায় শেয়ার বিক্রি করে লোকসান কমানোরও পথ পাচ্ছেন না। কারণ, অনেক শেয়ারের ক্রেতা সংকট আছে। এর বাইরে শেয়ারবাজারে নানা গুজব ও গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। এরও নেতিবাচক প্রভাব বাজারে রয়েছে বলে বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান।

গতকাল ডিএসইতে ৫৮৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষ ৫০ কোম্পানির ৪১৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোটের ৭১ শতাংশের বেশি। আর একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডেরই ৮৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।