শেয়ারবাজার দরপতনের জন্য বারবার কর বা ভ্যাটকে দায়ী করা হলেও তা পুরোপুরি ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

তিনি বলেছেন, এ দুরবস্থার জন্য ভ্যাট ও কর ছাড়া অন্য কী কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার জন্য শেয়ারবাজার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। 

বুধবার সিলেটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর উপশহরে একটি অভিজাত হোটেলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। 

সভায় বক্তারা বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী ও সুষম বাজেট প্রণয়নে বরাবরই বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা ও দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাজেট প্রস্তাব আহ্বান করে। এসব আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর ভিত্তিতে বাজেট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। স্মার্ট, স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের গুরুত্ব অপরিসীম। যেখানে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে আহরিত রাজস্ব ছিল ১৬৬ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা।

আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অর্জিত লভ্যাংশের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার অনুরোধ করেন। এছাড়া লিস্টেড ও নন লিস্টেড কোম্পানির কর্পোরেট কর দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ হ্রাস করার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ী নেতারা। 

সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস নীতি) মো. মাসুদ সাদিক, সদস্য (আয়কর নীতি) ড. সামস উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য (মূসক নীতি) জাকিয়া সুলতানা। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের কর কমিশনার সৈয়দ জাকির হোসেন, সিলেটের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ সিলেট বিভাগের চারটি চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির ব্যবসায়ীরা।