নাসিরনগর

খুনের মামলায় জামিন পেয়েই আরেক খুন, মাথা নিয়ে হাজির থানায়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০১৯     আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯      

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার) সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক বৃদ্ধকে হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে সেই মাথা নিয়ে থানায় হাজির হয়েছে এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা সদরের গৌর মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিটন ঘোষ (৫০) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচড় সদর উপজেলার ঘোষ পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে থানায় যাওয়ার পর লবু দাসকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায়। প্রয়াত পরমান্দ দাস তার বাবা।

কিছুদিন আগে তার আপন চাচা (৭নং ওয়ার্ড মেম্বার) মতি দাসকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় লবুকে। ওই ঘটনার কিছুদিন যেতে না যেতেই আটক লবু জামিনে মুক্ত হয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, লিটন ঘোষ তার ভগ্নিপতি নেপাল ঘোষের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি তার বোনের বাড়িতে থাকছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য খৃষ্টান পরিষদের সাবেক এক সভাপতি বলেন, নিহত ও হত্যাকারী দুইজনই মাদকসেবী ছিলেন। নাসিরনগরের গৌর মন্দিরটিকে কেউ কেউ মাদক সেবীদের আস্তানা বানিয়ে রেখেছেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিটনকে হত্যার পর তার মাথা কেটে বস্তায় করে থানায় হাজির হয়েছে আসামি নিজেই। নিহত ব্যক্তির মাথাসহ আমরা তাকে আটক করেছি।

গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে গৌরমন্দির সংলগ্ন গৌতম বনিকের দোকান থেকে র‌্যাবের একটি দল প্রচুর ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এখানে সবসময় মাদক সেবন ও বিক্রি করা হয়। লেবু দাস এক বছরে দুটি হত্যা করেছে। অথচ তার কোন বিচার হচ্ছে না।

তিনি বলেন, কী কারণে সে জেল থেকে ছাড়া পেল সেটাও বুঝতে পারছি না।