যাদুকাটা নদীর ইজারা ও বোমা মেশিন ব্যবহারে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলায় টাঙ্গুয়া হাওরে পরিবেশগত হুমকি ও জাদুকাটা নদী দূষণ, দখল অবৈধ ইজারা বন্ধে মানববন্ধন করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা।

সোমবার দুপুর দুইটায় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর পূর্ব বাজারে এবং মঙ্গলবার লাউড়েরগড় বাজারে দুপুর একটা তিরিশে বানববন্ধন করে পবা।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন আতিক রহমান পুর্নিয়া। বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী কবি শাহেদ কায়েস, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টিটু পুরকায়স্থ, পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, কবি সাহিত্যিক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বোমা মেশিন ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং এই বালু মিশ্রিত পানি হাওরের বিভিন্ন জমিতে ঢুকে যাচ্ছে এবং চাষাবাদের ক্ষতি করছে। যাদুকাটা নদীর প্রশস্ততা দিন দিন বাড়চ্ছে। নদীর ঢালু ও নিম্নাঞ্চলে প্রচুর বালু যাচ্ছে এবং এই বালু মাটির সঙ্গে মিশে ফসলের উর্বরতা কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার নদী দ্রুত ভরাট হচ্ছে এবং এর ফলে নদীর গতিপথ ও স্রোতধারার পরিবর্তন হচ্ছে। বালু মিশ্রিত হওয়ার কারণে হাওর দ্রুত ভারট হচ্ছে। হাওরের ইকোসিস্টেম নষ্ট হওয়ার কারণে মাছসহ প্রাণীজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকা। কিন্তু বালু উত্তোলনের জন্য সরকার অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছে এর ফলে হাজার হাজার টাকা প্রকল্পে ব্যয় গচ্ছা দিচ্ছে। একইসঙ্গে এখানে ইকোসিস্টেম পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদী ফসল ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি হচ্ছে।

আবু নাসের খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নদী ক্ষতিগ্রস্থ হয় এমন কিছু করা যাবে না। সরকারের উচিৎ হবে আইন বাস্তবায়ন করা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে ইজারা বা চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে যাদুকাটা নদীকে বাচাঁনো সম্ভব। বোমা মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে অনেকের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে।

মানববন্ধনে পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী কবি শাহেদ কায়েস বলেন, নদীর তলদেশে বোমা মেশিন ব্যবহারের কারণে এ এলাকার ইকোসিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাবে শুধুই যে এ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাই নয়, এর সুদুর প্রসারী ক্ষতি বাংলাদেশের সব জায়গাতে পড়বে। আমরা চাই টাঙ্গুয়া হাওরের যাদুকাটা নদীর অবৈধ দূষণ, ইজারা এবং দখলদারিত্ব বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা, এই বিষয়ে সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতাভুক্ত করা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিষয় : টাঙ্গুয়ার হাওর