ইউএনও যিনি ঠিকাদারও তিনি!

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৯      

সুনামগঞ্জ ও ধর্মপাশা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত সীমানা নির্ধারণ ফলকে সৌজন্যে উপজেলা প্রশাসনের নাম থাকায় টাইলস অপসারণ করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান- সমকাল

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণী নামফলক নির্মাণে ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ইউএনও নিজেই ঠিকাদার সেজে কাজ করিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারের।

এসব নামফলকের কাজ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে করা হলেও ফলকগুলোতে সৌজন্যে উপজেলা প্রশাসন লেখায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একজন ইউপি চেয়ারম্যান তার পরিষদসংলগ্ন দুটি নামফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২৫টি সাইকেল ক্রয়, প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দানের লক্ষ্যে একটি দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার তৈরিসহ ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের দুই পাশে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন ও সেলবরষ ইউনিয়ন, সেলবরষ ও পাইকুরাটি ইউনিয়ন, পাইকুরাটি ও মধ্যনগর ইউনিয়ন, ধর্মপাশা বারহাট্টা সড়কে ধর্মপাশা উপজেলা ও বারহাট্টা উপজেলার নাম উল্লেখ করে স্বাগতম ও বিদায় লেখা সংবলিত মোট আটটি ফলক নির্মাণের জন্য ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার আরপি এন্টারপ্রাইজকে। আরপি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জানান, যথাসময়ে সাইকেল ক্রয় ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা তৈরি করে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। নামফলকের নির্মাণকাজ চলমান ছিল।

ওই ঠিকাদার জানান, নামফলকের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করে বিশেষ টাইলস বসানোর কাজ নিজেই করাবেন বলে তার কাছে ইউএনও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। যদিও ফলকে নাম লিখন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।

পরে ইউএনও ধর্মপাশা উপজেলার এক সংবাদকর্মীর সোনালী ব্যাংকের হিসাব (টাকা হস্তান্তরের রসিদ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত) মাধ্যমে ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নিজেই কাজ করাতে থাকেন।

এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তিনি নামফলকের কোনো কাজ করাননি। তবে নামফলকের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ঠিকাদারকে। টাইলসসহ অন্যান্য কাজ ঠিকাদার নিজেই করিয়েছেন। ঠিকাদার যে কারও ব্যাংক হিসেবে টাকা লেনদেন করতে পারেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এদিকে উপজেলা পরিষদের ব্যয়ে নির্মিত ফলকগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করায় সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান তার এলাকার দুটি নামফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন। চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন বলেন, যেখানে উপজেলা পরিষদের টাকায় কাজ হয়েছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসন তিনি কি করে লেখেন? যাকে দিয়েই কাজ করিয়ে থাকুক তা সমীচীন হয়নি। তাই নামফলক থেকে মিস্ত্রি দিয়ে টাইলস অপসারণ করিয়েছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ফলকে উপজেলা প্রশাসনের নাম রয়েছে যা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।