মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০১৯      

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

গ্রেফতার সেলু মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে স্ত্রী ও শাশুড়িকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মূল হোতা সেলু মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সেলু তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়। হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ঘাতক সেলু মিয়ার জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে ডাবল মার্ডারের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লা বলেন, দুই বছর আগে হবিগঞ্জ শহরতলির উমেদনগর এলাকার নূর মিয়ার ছেলে সেলু মিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে হয় বানিয়াচং উপজেলার তারাসই গ্রামের ফুল মিয়ার বোন ফুলবরণ নেছার। বিয়ের পর সেলু ও ফুলবরণের সংসার সুখে-শান্তিতে কাটলেও সম্প্রতি দেখা দেয় কলহ। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলা দায়ের করা হয় সেলু মিয়ার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই সেলু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রথম স্ত্রীর স্বজনদের সহায়তায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ফুলবরণ নেছা ও তার বৃদ্ধা মা আদালতে আসার জন্য শহরতলির উমেদনগরের চাচাতো ভাই এনামুলের বাসায় রাতযাপন করেন। এনামুলের বাসায় বিষয়টি নিয়ে আপসের কথাবার্তা হয়; কিন্তু তাতেও কোনো ফল মিলেনি।

এরপর সন্ধ্যার দিকে সেলু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে নতুন বাসায় নেওয়ার কথা বলে একটি অটোরিকশায় তোলে। সঙ্গে ছিল সেলুর প্রথম স্ত্রীর বাবা তাজুল মিয়াসহ কয়েকজন। একপর্যায়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় পৌঁছলে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে খোয়াই নদীর চরে নিয়ে বেধড়ক মারধরে অজ্ঞান করে। অজ্ঞানের পর স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা মা-মেয়ের মরদেহ খোয়াই নদীতে ফেলে দেয়। এসপি আরও বলেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের শতমুখা এলাকার খোয়াই নদী থেকে স্ত্রী ও ১৯ সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের বাজুকা এলাকা থেকে শাশুড়ির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজু আহমেদ ও সহকারী পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা।