সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় উন্নয়ন কাজের জন্য মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই সময় পরিবহন শ্রমিক ও নগর ভবনের কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫-৭ জন আহত ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। 

ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ নামের এক শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। ফাহাদ অস্ত্র হাতে নিয়ে মেয়রের দিকে তেড়ে গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

বুধবার দুপুর ১টার দিকের এ ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকরা দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, শিববাড়ি, চণ্ডিপুল ও ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে গাছ ফেলে সড়কে ব্যারিকেড দেয়। ফলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ও সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যারিকেড সরানোর পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে। 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ জানিয়েছেন, চৌহাট্টায় সংঘর্ষকালে পুলিশ আধঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামাতে শটগানের ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

 সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়কের সংস্কার কাজে বিঘ্ন ঘটার কারণে সম্প্রতি মাইক্রোবাসের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অবৈধ ওই স্ট্যান্ড উচ্ছেদে করতে গিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলার সৃষ্টি হয় মেয়রের। পরে সেদিন তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র। এর আগে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়। বৈঠকের সীদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাইক্রোবাস ও কার চালকদের নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি রাখতে বলা হয়। সে অনুযায়ী চালকরা গাড়িও রাখেন। কিন্তু আগের ছেড়ে দেওয়া স্থানে উন্নয়ন কাজ শুরু করায় মঙ্গলবার সকালে বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকরা। উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। খবর পেয়ে দুপুরে কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি চালকদের গাড়ি সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চাইলে এক পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। সংঘর্ষকালে ৩০-৩৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে পরিবহন শ্রমিকরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দেয়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে ব্যারিকেড তুলে নেয় শ্রমিকরা। 

উচ্ছেদ অভিযানকালে পরিবহন শ্রমিক ও নগর ভবনের কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি: ইউসুফ আলী

সমকালের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন মাইক্রোবাস শ্রমিকরা। গোয়ালাবাজারে দুপুর ২টা ২০মিনিটের সময় মহাসড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হলে দু'পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা। 

গোয়ালাবাজার বাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সভাপতি চুনু মিয়া বলেন, জেলার নেতাদের নির্দেশে আমরা মহাসড়সকে ব্যারিকেড দিই। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ফুটপাত দখল করে যারা স্ট্যান্ড করেছেন তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। উন্নয়ন কাজের স্বার্থে স্ট্যান্ড ছাড়ার কথা দিয়ে তিন দিনের সময় নেয় তারা। কিন্তু এই সময়ে মধ্যে তারা স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়নি। বুধবার সকালে সিসিকের কর্মীরা কাজ শুরু করতে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের যানবাহন সরিয়ে নেয়। কিন্তু আবার সেখানে গাড়ি পার্ক করতে শুরু করে চালকরা। খবর পেয়ে কয়েকজন কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়।

 এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চৌহাট্টার অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য মেয়র দায়ী। কারণ একাধিকবার বৈঠক করে উন্নয়নের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ মতামত দিয়েছি। কথা মতো চালরা নির্দিষ্ট স্থানে গাড়িও রেখেছে। কিন্তু ছেড়ে দেওয়া জায়গায় মেয়র কাজ শুরু করলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়। তিনি আমাদের বেশকিছু গাড়িও ভাংচুর করেছেন। ক্ষতিপূরণ তাকেই দিতে হবে।

মন্তব্য করুন