সিলেটে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফয়সল আহমদ ফাহাদ গ্রেপ্তারের ঘটনায় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার নগরীর চৌহাট্টায় অভিযানের সময় ফাহাদ মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ‘হত্যাচেষ্টা’ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে অতীতে মেয়র আরিফের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে ফাহাদকে দেখা গেছে।

এসব অভিযানের ছবি ফাহাদ ফেসবুকে নিজের ওয়ালে দিয়েছেন। ছবিতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানও সঙ্গে রয়েছেন। ফলে বুধবার চৌহাট্টায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের সময় ফাহাদ কার সঙ্গে গিয়েছিলেন; তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মেয়র আরিফ দাবি করেছেন, তিনি ফাহাদকে চেনেন না বা কোনোদিন দেখেনওনি। ছবির প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অভিযানের সময় অনেকেই আশপাশে থাকে। তাদের সবাইকে তো চিনি না।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনো পক্ষের ইন্ধন ছিল বলে মনে করেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মেয়র আরিফ। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা নেওয়ার বিষয় থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেয়র বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে সাধারণ শ্রমিকরা সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু চাঁদাবাজ গুটিকয়েক শ্রমিককে উসকানি দিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উন্নয়ন কাজের সময় নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফাহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সিলেট বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব। সংঘর্ষের ঘটনায় সিসিকের পক্ষে মামলা করা হলেও তাতে ফাহাদের বিরুদ্ধে মেয়রকে ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ করা হয়নি।

২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল সিসিকের উচ্ছেদ অভিযানের দুটি ছবি ফেসবুকে নিজের ওয়ালে দিয়েছেন ফাহাদ। ছবিতে মেয়রের সঙ্গে ফাহাদ ছাড়াও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানকে দেখা গেছে। একটি ছবিতে মেয়র ও কাউন্সিলরের সঙ্গে ফাহাদকে পাশাপাশি হাঁটতে দেখা গেছে।

ফাহাদকে সংগঠনের নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু। তবে ফাহাদ অস্ত্রসহ চৌহাট্টায় কেন গিয়েছিলেন, তা তিনি বলতে পারেননি। এ ঘটনায় ফাহাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সিসিকের পক্ষে অস্ত্রধারী ফাহাদকে পরিবহন শ্রমিকদের ‘সহযোগী’ বলা হলেও সংশ্নিষ্টরা তা অস্বীকার করেছেন। চৌহাট্টা শাখা কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অরুণ দেবনাথ বলেন, অস্ত্রধারী যুবক তাদের কেউ নন। এমনকি স্ট্যান্ডের কোনো গাড়ির মালিকও নন। তিনি কার পক্ষে গিয়েছিলেন, জানেন না।

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ফাহাদ নামে কাউকে আমরা চিনি না। তিনি শ্রমিক সংগঠনের কেউ নন।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আলী আকবর রাজনকে শ্রমিকদের হয়ে হাতাহাতি করতে দেখা গেছে। তখন ফাহাদকে লোদীর পাশে দেখা গেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ছাত্রদল নেতা রাজন যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সিসিকের করা মামলায় রাজনকে আসামি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলা:

বুধবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং সিসিকের উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাস আরেকটি মামলা করেন। এসব মামলায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৩২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফাহাদকে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানান, ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তালিকা করার কাজ শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন