সাপ্তাহিক ছুটি ও জাতীয় শোক দিবসের ছুটির জন্য চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট দু’দিন স্থগিত ছিল। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সংকট নিরসনে শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গল অফিসে চা-শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এনডিসি।

জানা যায়, চা-শ্রমিকদের মজুরি তিনশ টাকা করার দাবিতে মৌলভীবাজারের ৯২টিসহ দেশের ১৬৭টি চা-বাগানে একযোগে ১০-১২ আগস্ট দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। এরপর টি গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন তাদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা করে। তবে চা-শ্রমিক নেতারা ১৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেন। বাগান মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা না দেখালে ১৩ আগস্ট পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। তারা ১৪ আগস্ট মৌলভীবাজারসহ দেশের সব বাগানে কর্মবিরতির পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল ও রাজপথ অবরোধ করেন। এরপর একদিন সাপ্তাহিক ও জাতীয় শোক দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত রাখেন শ্রমিক নেতারা। আজ ১৬ আগস্ট থেকে ফের কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। এতে দেশের ১৬৭টি চাবাগানসহ ফাঁড়ি বাগানগুলো অচল হয়ে পড়েছে। চায়ের ভরা মৌসুমে চা উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় প্রতিদিন বাগানগুলোতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন বাগানের মালিকপক্ষের লোকজন।

এ দিকে চা বাগানে অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খারেদ মামুন চৌধুরী এনডিসি ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন শ্রীমঙ্গলে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে মিটিংয়ে বসেছেন। মিটিংয়ে শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাত ভ্যালির সভাপতিসহ অন্ততত ৪০ চা-শ্রমিক নেতা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্ত জানার জন্য শ্রম অধিপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভড করেননি।