মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় টুইটার। কোনো কোনো দেশে তো ফেসবুকের চেয়েও বেশি ব্যবহূত হয় টুইটার। তবে সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন তথা চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে প্ল্যাটফর্মটি। ২০০৬ সালে জ্যাক ডোরসি, বিজ স্টোন, ইভান উইলিয়ামস ও নোহা গ্লাস প্রতিষ্ঠিত টুইটার এবার নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পণ্য ও সেবার দিক থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি হওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বিবেচনায় টুইটারই কি শীর্ষ কোম্পানি? ইলন মাস্কের হাতে পড়ে আরও জনপ্রিয় হতে পারবে? জনপ্রিয় হলেও টুইটার কি তার নিজস্বতা হারাবে? এ রকম অসংখ্য প্রশ্ন এখন তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে।

ইলন মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রিক গাড়ির কোম্পানি টেসলার মালিক। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ অভিযানে স্পেসএক্স নামের কোম্পানিরও মালিক তিনি। এই দুই কোম্পানির মাধ্যমে অন্তত তিনি গাড়ি এবং মহাকাশযাত্রায় নতুন ইতিহাস লেখাতে সমর্থ হয়েছেন। ইলন মাস্কের অধীনে টুইটারের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ কতটা সফল হবে, তা আপাতত তোলা থাক। কিন্তু টুইটারকে ঢেলে সাজাতে ইলন মাস্ক যে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

টুইটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী পরাগ আগরওয়াল, মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ অনেকেই ইলন মাস্কের এ অধিগ্রহণকে ভালো চোখে দেখছেন না। তবে ইলন মাস্কের মূল লক্ষ্য, টুইটারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে আরও লাভজনক প্ল্যাটফর্মে রূপায়িত করতে চান তিনি।

আয়ের লক্ষ্যমাত্রা
টুইটারের বর্তমান বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার কোটি ডলার। ফেসবুকের তুলনায় এটি যৎসামান্যই বলা চলে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২৮ সাল নাগাদ টুইটারের বার্ষিক আয়কে ছাব্বিশ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা। এ জন্য বিজ্ঞাপননির্ভরতা কমিয়ে আয়বর্ধক নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হবে টুইটারে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির আয়ের শতকরা ৯০ ভাগই আসে বিজ্ঞাপন থেকে। ২০২৮ সাল নাগাদ একে ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চান মাস্ক। এ সময় এক হাজার ২০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের টার্গেট রয়েছে বিজ্ঞাপন থেকে। সাবস্ট্ক্রিপশন থেকে আয় এক হাজার কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ ছাড়া ডাটা লাইসেন্সিং থেকেও আয় করতে চান তিনি। ২০২৩ সাল নাগাদ এক কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হবে পেমেন্ট ব্যবসা থেকে, যা ২০২৮ সাল নাগাদ এক হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাবে। টুইটারে বর্তমানে টিপিং ও শপিং নামে যৎসামান্য পেমেন্ট ব্যবসা রয়েছে। টুইটারে পেমেন্ট সিস্টেমে যুক্ত হতে পারে পেপ্যাল, যা প্ল্যাটফর্মটির পেমেন্টে বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করতে পারে।

বাড়বে ব্যবহারকারী
ইলন মাস্ক টুইটারকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চান। ব্যবহারকারী বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীপ্রতি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যও নিয়ে রেখেছেন মাস্ক। প্ল্যাটফর্মটির বর্তমান ব্যবহারকারী ২১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ২০২৫ সাল নাগাদ ৬০ কোটিতে নিয়ে যেতে চান তিনি। এ ছাড়া ২০২৮ সাল নাগাদ ৯৩ কোটি ছাড়িয়ে যেতে চান। মূলত টুইটার বিজ্ঞাপন সমর্থিত ব্যবসা, টুইটার ব্লু (বর্তমানে তিন ডলার দেন এ ধরনের ব্যবহারকারীরা)। ২০২৮ সাল নাগাদ ব্লু ব্যবহারকারী ১৬ কোটিতে নিয়ে যেতে চান তিনি।

এক্স ফ্যাক্টর
'এক্স' নতুন ফিচার কিংবা পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চান মাস্ক। এটিই হয়ে উঠতে পারে টুইটারের এক্স ফ্যাক্টর। আগামী ছয় বছরের মধ্যে ১০ কোটিরও বেশি 'এক্স' সাবস্ট্ক্রাইবার বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে মাস্কের। এক্স আসলে কী হবে, এটি সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে ইলন মাস্ক যে ধারণা দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, এটি হতে পারে বিজ্ঞাপনবিহীন টুইটার ব্যবহারের বিশেষ সুবিধাসংবলিত ফিচার। প্রথম বছরেই প্রায় এক কোটি 'এক্স' ফ্যাক্টর ব্যবহারকারী নিবন্ধনের টার্গেট করেছেন মাস্ক।