একটি ভালো কম্পিউটার হওয়ার জন্য ভালো সিপিইউ, মনিটর, পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ডডিস্ক, র‌্যাম, প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, মাদারবোর্ড- অর্থাৎ প্রতিটি দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কম্পিউটার কেনার সময় আমাদের প্রধান নজর থাকে শুধু সিপিইউর দিকে। অন্যান্য যন্ত্রাংশের দিকে খেয়াল থাকলেও মনিটরে খুব বেশি নজর থাকে না। কিন্তু কম্পিউটারে সিপিইউ আর মনিটর উভয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের মনিটরের ওপর সিস্টেমের পারফরম্যান্স কেমন হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে। বাজারে নানা ব্র্যান্ডের মনিটর রয়েছে। এর মধ্যে দেশি ওয়ালটন ছাড়াও ডেল, স্যামসাং, এইচপি. ভিউসনিক, আসুস, বেনকিউ, এলজি প্রভৃতি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন আকার ও ফিচার সংবলিত মনিটর রয়েছে।

মনিটরের রকমারি ফিচার
ভালো মনিটর নির্বাচনে ডিসপ্লে প্যানেল, রেজুলেশন, রিফ্রেশ রেট, পোর্টের ধরন, আকার এ রকম নানা অনুষঙ্গ বিবেচনায় রাখতে হয়। বাজারে এখন মনিটরের টিএন এবং আইপিএস নামে দুই ধরনের প্যানেল পাওয়া যায়। তবে আইপিএস ডিসপ্লে তুলনামূলক ভালো ও জনপ্রিয়। টিএন প্যানেল অপেক্ষাকৃত কম দাম, কালার একুরেসি কম; তবে রিফ্রেশ রেট বেশি। সাধারণ কাজ ও গেমিংয়ের জন্য এটি ভালো। আইপিএস প্যানেলের তুলনামূলক দাম বেশি। কালার একুরেসি খুবই ভালো। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা প্রফেশনাল কাজের উপযোগী এটি।

মনিটরের রেজুলেশন
আজকাল মনিটর মোটামুটি ১৯ বা ১৮.৫ ইঞ্চিগুলোই সচরাচর মধ্যমমান হিসেবে বেশি ব্যবহূত হয়। এ মনিটরগুলোর সর্বোচ্চ রেজুলেশন সাপোর্ট ১৩৬৬ ী ৭৬৮ এবং এগুলোর রেশিও সাধারণত ১৬ :৯। বাজেট একটু বাড়ালেই হাতের নাগালে থাকবে ২১.৫ ইঞ্চির মনিটরগুলো। এগুলোর রেজুলেশন শুরুই হয় এইচডি অর্থাৎ ১৯২০ ী ১০৮০ থেকে। এ মনিটরগুলো ১৬ :৯ কিংবা ১৬ :১০ অনুপাতের হয়ে থাকে। গেমারদের জন্য ১৬ :১০ অনুপাতের মনিটর খানিকটা বাড়তি সুবিধা দেবে। বর্তমান সব গ্রাফিক্স কার্ডই এইচডি সাপোর্ট করে। কাজেই খুব একটা মাথা ঘামানোর দরকার পড়বে না সাপোর্ট নিয়ে। ম্যাকের রেজুলেশনগুলোও ১৬ :১০ অনুপাতের হয়।

তবে রেজুলেশন যত ভালো হবে, আপনার ভিডিও দেখার বা গেম খেলার অভিজ্ঞতা তত বেশি ভালো হবে। জিপিইউ যদি ৪কে ভিডিও রেন্ডার না করতে পারে, তাহলে ৪কে মনিটর নিয়ে গেম খেলতে পারবেন না। তবে আধুনিক মাদারবোর্ড, সিপিইউ স্ট্রিমিং সার্ভিসের ৪কে ভিডিও বেশ ভালোভাবে চালিয়ে দেয়।

মনিটরের সাইজ কেমন হবে, এটাও আপনার সামর্থ্যের ব্যাপার। যত বড় নেবেন, তত দেখে শান্তি পাবেন। কিন্তু রেজুলেশন যদি ১০৮০ হয়, তাহলে ২৩ ইঞ্চির বেশি বড় মনিটর নিয়ে লাভ নেই। ৪কে হলে আরও বড় মনিটর নেওয়া যেতে পারে। এখন কার্ভড (বাঁকানো) মনিটর কেনেন অনেকে। এগুলোর মানও বেশ ভালো।

রেসপন্স টাইম
রেসপন্স টাইম হচ্ছে একটা মনিটরের একটা পিক্সেলের তথ্য পরিবর্তন হতে যে সময় লাগে, সেটা। কাজেই রেসপন্স টাইম যত কম, মনিটরের মান তত বেশি ভালো। স্ট্যান্ডার্ড রেসপন্স টাইম ৫ মিলিসেকেন্ড। গেমিং লেভেলের মনিটরগুলো ২ মিলিসেকেন্ডের হয়। আপনার বাজেটের মধ্যে ২ মিলিসেকেন্ড পেয়ে গেলে নিয়ে নিন। কিন্তু ৭ মিলিসেকেন্ড না নেওয়াই ভালো।

রিফ্রেশ রেট
একটা মনিটর সেকেন্ডে কতবার ডিসপ্লে রিফ্রেশ করবে, সেটার হিসাব করা হয় রিফ্রেশ রেট দিয়ে। সাধারণত এটা ৬০ হয়। তবে ৭৫ও হয়। থ্রিডি মনিটরগুলো আরও বেশি রিফ্রেশ রেট রাখে (১২০ এর মতো)। মোটামুটি ৬০-এর নিচে রিফ্রেশ রেট নেমে এলে মনিটরে ফ্লিকিং দেখতে পাবেন।

পোর্টের ধরন ও সংখ্যা
এখন এইচডিএমআই পোর্টটাই সর্বত্র থাকে। তাই দেখে নেবেন আপনার মনিটরে এইচডিএমআই পোর্ট আছে কিনা। আর আপনি যদি পুরোনো ডেস্কটপের নতুন মনিটর কেনেন, তাহলে আপনার আউটপুটটা ভিজিএ থাকলে ভিজিএ পোর্টযুক্ত মনিটর কিনতে হবে। অনেক নতুন হাই অ্যান্ড ল্যাপটপে এখন থান্ডারবোল্ট পোর্ট দিচ্ছে, সেটাও খেয়াল করবেন। মোটকথা, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা গেমিং কনসোলের আউটপুটের কথা মাথায় রেখে মনিটর কিনুন।

রকমারি মনিটর
বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ ধরনের মনিটর এখন বাজারে পাওয়া যায়। এলসিডি, এলইডি থেকে ওএলইডি, প্লাজমা এবং টাচ মনিটরও মিলছে বাজারে। ঘরোয়া কাজে, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে, গেমিং কিংবা মাল্টিমিডিয়ার জন্য বেছে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় মনিটরটি।

দরদাম
আপনি সাধারণ ঘরোয়া কাজের জন্য, যেমন- ই-মেইল কিংবা ওয়েবসাইট দেখা, ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া ছোটখাটো সফটওয়্যার চালানোর মতো কাজের জন্য মনিটর ব্যবহার করলে কিনতে পারেন অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মনিটর। কিন্তু প্রফেশনাল কাজ, মুভি দেখা বা গেম খেলার জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো মানের মনিটর কেনা উচিত। বাজারে কিন্তু নামসর্বস্ব বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অনেক নিম্নমানের মনিটরও রয়েছে। কম দামে মিললেও এসব মনিটরে কাঙ্ক্ষিত ছবি পাবেন না। এগুলো অনেক সময় চোখের জন্যও ক্ষতিকর। বাজারে এখন চার হাজার ৫০০ থেকে কয়েক লাখ টাকা দামের মনিটর পাবেন। কাজ চালানোর জন্য ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মনিটর পাওয়া যাবে। প্রয়োজন আর বাজেটের মেলবন্ধনে কিনে ফেলুন আপনার কাঙ্ক্ষিত মনিটরটি।