ই-কমার্সে কর অব্যাহতিসহ ১১ দাবি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট আরোপ করলে উদীয়মান এ খাতটি হুমকির মুখে পড়বে। ক্রেতারা অনলাইন কেনাকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। ই-কমার্স খাত এখনও ভর্তুকী পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এখনো ভ্যাট আরোপের সময় আসেনি। আগামী পাঁচ বছর ই-কমার্স খাতকে ভ্যাটের আওতা মুক্ত রাখা জরুরি।

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ মেয়াদের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলো যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়।

রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে হার্ডওয়্যার খাতের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এবং কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন (বাক্য)। এতে ই-কমার্স খাতে ভ্যাট প্রত্যাহারসহ ১১টি সুর্নিদিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, সামগ্রিকভাবে বাজেট নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। আইসিটি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বারাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে ২১৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বরাদ্দ দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরিতে পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করলে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশের ওপর মূসক অব্যাহতি এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি বরাদ্দ রাখার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে বাজেটে ই-কমার্সে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এ খাতের বিকাশে হুমকি হিসেবে দেখা দেবে। ফলে ই-কমার্সকে এগিয়ে নিতে এ খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার জরুরি।

তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর আগাম কর অব্যাহতি চেয়ে বিসিএস সভাপতি শাহীদ-উল-মুনির বলেন, সেবার কোডের ওপর আগের ৫ শতাংশ মূসক থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমরা চাই আগের মতো এটা ৫ শতাংশ বহাল রাখা হোক। এছাড়া ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটরকে ভ্যাট মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি। বাজেটে ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর ভ্যাট মুক্ত রাখা হয়েছে।

ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি এবং এনটিটিএন সংযোগের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম।

তিনি বলেন, ফাইবার অপটিক এবং এনটিটিএন'র মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সমিশন খরচ এমনিতেই অনেক বেশি। এজন্য ঢাকার বাইরে ইন্টারনেটের খরচ বেশি হয়। এর ওপর ভ্যাট ও কর আরোপ করলে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে বাক্য সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন আইটিএস খাতে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে, বিপিও খাত আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার দাবি জানান।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতে ১৫ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইসিটি বিভাগের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে এক হাজার ৯২০ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।