সেপ্টেম্বরে ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করবে সরকার: মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবে গুজবসহ যে কোনো তথ্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকার আগামী সেপ্টেম্বরেই অর্জন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা খুশি তা করার দিন শেষ।

শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে 'তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ' শীর্ষক প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় সভায় মোস্তাফা জব্বার এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

একজন শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, রাষ্ট্রের এখন সবচেয়ে বড় সক্ষমতা হচ্ছে, ইচ্ছে করলেই যে কোনো ওয়েবসাইটকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি বড় অর্জন। তবে সমস্যা হচ্ছে, যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয় অথবা ভিডিও প্রচার করা হয়, সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর কারণ হচ্ছে, বিশেষ করে ফেসবুক বা ইউটিউব- এ দুটিই মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এটা আমেরিকান কমিউনিটির স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করে থাকে। আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে আশা করছি, শিগগিরই এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারব। আগামী সেপ্টেম্বরে এ ব্যাপারে সক্ষমতা অর্জন করবে সরকার। তখন ইচ্ছামতো ফেসবুক বা ইউটিউবে কিছু প্রচার করা যাবে না। মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করার ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে তা যেন অন্যের ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব না করে- সেটাই নিশ্চিত করবে সরকার।

এর আগে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তবে আমরা চাই, মানুষের অধিকার অবারিত থাকুক। কিন্তু অবারিত অধিকার চর্চা করতে গিয়ে যেন রাষ্ট্রে হানাহানি সৃষ্টি না হয়, সমাজে অস্থিরতা না হয়, সেটা সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে কেবল এগিয়েই নিয়ে গেছে। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আওয়ামী লীগও এগিয়েছে। এই দলটির উত্থান হয়েছে; কখনও পতন হয়নি।

এর আগে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শিকড়ের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করে সস্তা রাজনীতি করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার পথচলার ৭০ বছরের ৫৬ বছরই ক্ষমতার বাইরে ছিল। তবুও সবার জনপ্রিয়তায় শেখ হাসিনার সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছিল। এখন তার ফল পাচ্ছে দেশের মানুষ।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ২৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের অনেকেই নির্ধারিত আলোচকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আলোচকরাও তার জবাব দেন।

এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান। সঞ্চালনা করেন প্রচার উপকমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।