বকেয়া পাওনা

প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিল রবি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির অডিট নির্ধারিত পাওনা বাবদ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা প্রথম কিস্তির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক সমকালকে এ তথ্য জানিয়ে আরও বলেছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরু করায় রবির জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত শর্ত সাপেক্ষে স্থগিত করা হবে। শর্ত হচ্ছে, আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের এনওসি প্রদান অব্যাহত থাকবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এর মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু টাকা না দিলে আবারও এনওসি প্রদান বন্ধ করা হবে। একইভাবে গ্রামীণফোনও যদি আদালতের নির্দেশনা মেনে বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরু করে, তাহলে তাদেরও এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে। বিটিআরসি সব পদক্ষেপ নেবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী।

তবে কিস্তি পরিশোধ করলেও এক বিবৃতিতে বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনকে 'ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক' বলেছে রবি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার আশাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রবিকে বিটিআরসির অডিট নির্ধারিত মোট পাওনা ৮৬৭ কোটি টাকার মধ্যে ১৩৮ কোটি টাকা পাঁচ মাসের সমান কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরু করায় রবি আবারও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কের কারিগরি সক্ষমতা হালনাগাদ করা, যন্ত্রপাতি আমদানি, নতুন প্যাকেজ চালু করতে পারবে। এতদিন এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটির এসব জরুরি কাজ বন্ধ ছিল। রবির বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরুর মধ্য দিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতে চলা অচলাবস্থার অবসান হতে চলেছে বলে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এক বিবৃতিতে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে প্রথম কিস্তির অর্থ মঙ্গলবার বিটিআরসিতে জমা দিয়েছে রবি। মূলত সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অবর্ণনীয় অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা আদালত নির্দেশিত প্রথম কিস্তির অর্থ জমা দিয়েছে। রবি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের আইন-কানুনের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে এটি অনস্বীকার্য, যে প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত এগিয়েছে তা রবির বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল তৈরি করেছে।

এদিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত বকেয়া পাওনার কিস্তি দেওয়া শুরু করেনি গ্রামীণফোন। এই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিটিআরসির অডিট নির্ধারিত মোট পাওনা ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ পাওনাকে অযৌক্তিক দাবি করে গ্রামীণফোন আইনি লড়াইয়ে গেলে সর্বোচ্চ আদালত তাদের তিন মাসের মধ্যে বকেয়া পাওনার দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।