বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রামীণফোন। রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই টাকা পরিশোধ করা হয়।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) জাকির হোসেন খান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে গ্রামীণফোনের পরিচালক ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান হোসেন সাদাতসহ একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে টাকার চেক হস্তান্তর করে।

বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রামীণফোনের কাছে বকেয়া পাওনার পরিমাণ ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এই পাওনা দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন আদালতে গেলে সর্বশেষ গত বছরের ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ তিন মাসের মধ্যে গ্রামীণফোনকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। তবে গ্রামীণফোন সেই অর্থ পরিশোধ না করে গত ২৬ জানুয়ারি দুই হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে। গত বৃহস্পতিবার সেই রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানি হয়। তবে এই শুনানির আগের দিন গ্রামীণফোনের কয়েকজন কর্মকর্তা ১০০ কোটি টাকার একটি চেক নিয়ে বিটিআরসিতে যান। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে ওই ১০০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে বিটিআরসি।

এরপর বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বেঞ্চ ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিটিআরসিকে নিরীক্ষা দাবির পাওনা এক হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে পরিচালক ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গ্রামীণফোন তার আইনগত অবস্থানের কোন প্রকার ব্যত্যয় ছাড়াই মহামান্য আপীলেট ডিভিশনের আদেশের প্রক্ষিতে আজ বিটিআরসিকে সমন্বয়যোগ্য  ১০০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণফোন তার অবস্থান পুর্নব্যক্ত করে বলতে চায় এটি একটি বিরোধপূর্ণ অডিট এবং গ্রামীণফোন আদালত অথবা আদালতের বাইরে এই অডিটের গঠনমূলক সমাধান করতে চায়।

হোসেন সাদাত জানান, অডিট বিরোধ সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে গ্রামীণফোন আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করে ব্যবসায়িক পরিবেশ খুব দ্রুত স্বাভাবিক হবে যার মাধ্যমে গ্রামীণফোন গ্রাহকদের মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।