তথ্যপ্রযুক্তি

ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশীদার হুয়াওয়ে

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

আগামী বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ। একই সময়ে অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির উপযোগিতা নিশ্চিত করে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত সমাজ, গুণগতমানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিশন-২০২১ গ্রহণ করেছে সরকার। ভিশন-২০২১ বা রূপকল্প-২০২১-এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ।

এই বিনির্মাণের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, ফোরজি যুগে প্রবেশের কথা। টুজি থেকে থ্রিজি পেরিয়ে দেশের মানুষ এখন ফোরজি প্রযুক্তি  ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ফাইভজি প্রযুক্তিও চালুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ফোরজি প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বহুলাংশে বেড়েছে। বিটিআরসির তথ্য মতে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৮১ লাখ ৮৮ হাজার। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হলেন ৯ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার গ্রাহক। মূলত দুটি কারণে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রথমত- দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত- স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে গ্রাহকদের কাছে স্মার্টফোন পৌঁছে দিচ্ছে।

সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে চারটি উপাদানকে চালিকাশক্তি ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কৌশলগত উপাদানগুলো হলো- দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, দেশের মানুষকে কানেক্টিভিটি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা, ই-গভর্ন্যান্স এবং ব্যবসায়িক খাতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার। এ পথচলায় সরকারের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের চেয়ে কম বয়সীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মক্ষম লোক অধিক। এই প্রতিশ্রুতিশীল ও উৎপাদনমুখী যুবগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই তরুণদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে একুশ শতকের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ পদ্ধতিকে সহজ করতে সরকার ডিজিটাল লার্নিং কনটেন্ট তৈরি করছে এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ করছে। এছাড়াও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের সহযাত্রী হিসেবে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হুয়াওয়ে বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডিজিটাল বাস প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে মিলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির সিডস ফর দ্য ফিউচার উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নতুন প্রযুক্তি যেমন ফাইভজি, ক্লাউড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পায় এবং এই প্রোগ্রামটিতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও খাত-সংশ্নিষ্ট জ্ঞানের অসাম্য দূরীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়াও টিঅ্যান্ডটি স্কুল প্রকল্পের আওতায় মহামারি চলাকালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সহজ করতে বিজয় ডিজিটালের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে হুয়াওয়ে। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের টিঅ্যান্ডটি হাইস্কুলগুলোতে প্রি-স্কুল থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুয়াওয়ে স্মার্ট ডিভাইস, বিজয় ডিজিটাল অ্যাপ ও কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

দেশের সকল নাগরিককে কানেক্টিভিটি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কথা- যেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষ ডিজিটাল সেবা নিতে পারছেন। ফলে দেশের সকল মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আসছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সংযুক্তি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে হুয়াওয়ে।

অন্যদিকে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে সাশ্রয়ী মূল্যের হুয়াওয়ে স্মার্টফোন। টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখছে হুয়াওয়ে। সারাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে হুয়াওয়ের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম উপাদান হলো সকলকে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসা। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি প্রশাসন, পানিসম্পদ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আইন ও বিচার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকারকে ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে হুয়াওয়ের।

ডিজিটাল সিটি প্রকল্পের অধীনে সিলেটে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে আইন রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী এবং সিলেটসহ কক্সবাজারে পাবলিক ওয়াই-ফাই জোন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে হুয়াওয়ে। বাংলাদেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল খাতেও হুয়াওয়ে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে প্রযুক্তিতে আরও বেশি স্বাবলম্বী করতে সম্প্রতি চালু করেছে ক্লাউড সেবা। দেশের বেসরকারি ব্যবসায়িক খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হুয়াওয়ের ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তৈরি পোশাকশিল্পের কথা। ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের অভাবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এ খাত।

গার্মেন্ট শিল্পনির্ভর বাংলাদেশের জন্য ক্লাউড হতে পারে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। কারণ, হুয়াওয়ে ক্লাউডের মাধ্যমে কারখানাগুলোতে অটোমেশন সহজে করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ক্লাউড থেকে নিজেদের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারবে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রের প্রসঙ্গে উল্লেখ করার বিষয় হলো- চীনে এর মধ্যেই হুয়াওয়ে প্রযুক্তিতে রিমোট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। চালু হয়েছে স্মার্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে অপ্রতুলতা রয়েছে অনেক। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এখনও নিজস্ব এলাকায় কতটুকু মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা পান সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই টেলিমেডিসিন এবং সর্বোপরি গ্রামে বসে ঢাকার চিকিৎসকের হাতে সার্জারি করা; সেটা একটা আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য হতেই পারে। সে লক্ষ্য যদি-বা মনে হয় এখনও দূর, কিন্তু যাত্রা শুরু হয়েই গেছে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধেও সরকারকে সহায়তা করতে ভিডিও কনফারেন্স সল্যুশন দিয়েছে হুয়াওয়ে।

বর্তমান সময়ের ভাইরাল একটি শব্দে- জিডিপি। আইএমএফের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টি এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্পের সেখানে একটা ভূমিকা রয়েছে। ইউএস এইডের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তা দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক শতাংশ বৃদ্ধিতে জিডিপি বৃদ্ধি পায় ০.২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক শতাংশ বৃদ্ধিতে জিডিপি বৃদ্ধি পায় ০.০৭ শতাংশ। এই নিবন্ধের প্রথমেই বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার একটা সমীক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই দুটো মিলিয়ে দেখলে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্পের ভূমিকাটা সহজেই বোঝা যায়।

গত ২১ বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে। যার উদ্দেশ্য একটি পরিপূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। 'ইন বাংলাদেশ, ফর বাংলাদেশ'- এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী এই আইসিটি লিডার বিশ্বাস করে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এটা সম্ভব হবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। যেখানে থাকবে এই পুরো ইকোসিস্টেমের সকল অংশীজন এবং প্রতিষ্ঠান। এবং সেই প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে নিজের নতুন নতুন প্রযুক্তি সহায়তা ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে যাবে হুয়াওয়ে।

নির্দ্বিধায় বলা যায়, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। এর মধ্য দিয়েই ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে এবং একইসঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও বাস্তবায়িত হবে।