ভবিষ্যতে বিজ্ঞান আমাদের জীবন কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে হলিউডে। ১৯৮২ সালের ছবি ব্লেড রানারে দেখানো হয়, ভবিষ্যতের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে আকাশের মহাসড়ক দিয়ে ছুটে চলেছে উড়ন্ত যানবাহন। বাস্তবেই এরপর থেকে প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়েছে, তা হয়তো হলিউডের নির্মাতারা তখন কল্পনাও করতে পারেননি।

আকাশে উড়তে পারে তাদের কল্পনার এমন অনেক যানবাহন এখনও রুপালি পর্দায় দেখা কল্পলোকের জিনিস হয়ে থাকলেও, উড়ুক্কু ট্যাক্সি কিন্তু এখন বাস্তবতায় রূপ পেয়েছে। সম্প্রতি জার্মানির ভলোকপ্টার কোম্পানি তাদের ভলোসিটি মডেলের বিদ্যুৎচালিত উড়ুক্কু ট্যাক্সিকে প্রথম বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। এই যান পাইলটবিহীনভাবে উড়তে পারবে। ভলোসিটি বাণিজ্যিকভাবে তাদের উড্ডয়ন শুরু করবে ২০২২ সালে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে ভলোসিটি মডেলের উড়ন্ত ট্যাক্সির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয়। ফলে যানজটের শহরগুলোতে নগরবাসীর স্বস্তি মিলবে বলে আশা অনেক বিশেষজ্ঞের।

উড়ন্ত ট্যাক্সি আগামী দশকগুলোয় আমাদের যাতায়াত, কর্মজীবন এবং জীবনযাত্রায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যাটারি প্রযুক্তি, কম্পিউটার এবং বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে এতটাই অগ্রগতি হয়েছে যে, উদ্ভাবকরা এখন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করছেন। সে সঙ্গে এসব গাড়ি আকাশে কোন পথ ধরে চলবে, তার পথনির্দেশনা পদ্ধতিও তারা উদ্ভাবন করেছেন।

উড়ন্ত গাড়িগুলোর নকশা তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আকাশপথে পরিবহন ব্যবস্থার নতুন নিয়মনীতি ও নিরাপত্তার মান কী হবে- তার রূপরেখা তৈরির কাজও শুরু করেছে। খবর বিবিসির।

মন্তব্য করুন