বেতার তরঙ্গ নিলামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবির মধ্যে। দিন শেষে জোরদার লড়াইয়ে জিতেছে গ্রামীণফোন। অবশ্য এজন্য তাদের রেকর্ড দাম দিতে হয়েছে। ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে শেষ নয় নম্বর ব্লকে ৫ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ প্রতি মেগাহার্টজ ৪৬ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নিয়ে গ্রামীণফোনই সোমবারের নিলামে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে।

এর আগে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তিন ব্লকে ১৫ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলাম হয়। গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংক ৫ মেগার্হাটজ করে বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নেয়। 

সোমবার নিলামে বরাদ্দকৃত বেতার তরঙ্গের মোট মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। তবে বিটিআরসি সূত্র জানায়, বরাদ্দ এই বেতার তরঙ্গের মূল্য ১৫ বছর মেয়াদে নির্ধারিত। কিন্তু তিনটি অপারেটরই সাড়ে পাঁচ বছর মেয়াদে বরাদ্দ নিতে চায়। ফলে মোট মূল্য থেকে বেশ কিছু অংক কমে যাবে। তবে শেষ ৫ মেগাহার্টজের ব্লকে যেভাবে মূল্য বাড়ছে, তার ফলে বিটিআরসি প্রত্যাশার বেশি মূল্য পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ফাইভজি'র জন্য বেতার তরঙ্গের ভিত্তি মূল্যও বড় অংকে বেড়ে যাবে।

এই বেতার তরঙ্গ নিলাম ছিল মোবাইল অপারেটরদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত। কারন একদিকে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে কভিড-১৯ মহামারির সময়ে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুনের বেশি। ফলে বেতার তরঙ্গ সক্ষমতা বাড়াতে না পেয়ে মোবাইল ইন্টারনেটসহ গ্রাহক সেবার সার্বিক মান বাড়াতে পারছিল না অপারেটররা। ফলে দোষের দায় নিতে হচ্ছিল তাদের। তবে এবার দীর্ঘ দিন পর যে পরিমাণ বেতার তরঙ্গ নিলামে তোলা হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় অপারেটররা যে পরিমাণ বরাদ্দ নিতে পেরেছেন, তা দিয়ে গ্রাহক সেবার মান খুব বেশি বাড়বে, এমন প্রত্যাশা করা কঠিন।

সোমবার বিটিআরসি নিলামে তোলে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। নিলামে অংশ নেয় দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক। সকালে নিলামের শুরু হয় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গে দর হাঁকার মধ্য দিয়ে। এ ব্যান্ডে তেমন কোন লড়াই হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতি মেগাহার্টজ (১৫ বছর য়েমাদে) দরে গ্রামীণফোন শূন্য দশমিক চার মেগার্হাটজ, রবি দুই দশমিক দুই মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক চার দশমিক চার মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়ে নেয়।

এরপর শুরু হয় ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের নিলাম। প্রথম পর্বে ৫ মেগাহার্টজ করে তিন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংললিংক তিনটি ব্লকে বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নেয় প্রতি মেগাহার্টজ ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দরে (১৫ বছর মেয়াদে)। শেষে বাকি থাকে ২১০০ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজের আর একটি ব্লক। এই ব্লক নিয়েই শুরু হয় গ্রামীণফোন ও রবির মধ্যে তীব্র লড়াই। শুরুতে অবশ্য রাষ্ট্রায়াত্ত অপারেটর টেলিটকও দর হাঁকিয়ে যায় পাল্লা দিয়ে। কিন্তু দর ৩১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত দর হাঁকার পর রণে ভঙ্গ দেয় টেলিটক। এরপর গ্রামীণফোন আর রবির রুদ্ধশ্বাস লড়াই শুরু হয়। সে লড়াই থামেনি।

মধ্যাহ্নভোজের আগ পর্যন্ত নিলামে ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে যে ২৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ হয়েছে তার মোট মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। আর রবি-জিপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নয় নম্বর ব্লকের ২১০০ মেগাহার্টজ ৫ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দে মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন, বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার সহ বিটিআরসি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত গণ্যমান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন