স্মার্টফোনে চলে আসছে হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম হারমনিওএস। দোসরা জুন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এশিয়ার স্মার্টফোনে এলেও, অপারেটিং সিস্টেমটি গোটা বিশ্বের স্মার্টফোনে কবে আসবে তা এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, স্মার্টফোনসহ হুয়াওয়ের অনেক পণ্যেই দেখা মিলবে হারমনিওএসের। 

গত বছর মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে হুয়াওয়ে। এর পরপরই নিজ ডিভাইসে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য।  জিমেইলসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলোতে প্রবেশাধিকার হারায় হুয়াওয়ের ডিভাইস। 

সে কারণেই মূলত স্মার্টফোনে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে হাজির হতে হচ্ছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট খ্যাত প্রতিষ্ঠানটিকে। তবে, হারমনিওএসকে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিস্থাপক ভাবছে না হুয়াওয়ে। -- খবর বিবিসি’র।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে বিশ্বে বিক্রি হওয়া ৮৫.৪ শতাংশ স্মার্টফোনই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত। আর বিশ্বের ১৪.৬ শতাংশ ডিভাইসে চলছে আইওএস অপারেটিং সিস্টেম।

ফোনে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের বাইরে নতুন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। এর আগে স্যামসাং নিয়ে এসেছিল টাইজেন, আর অ্যামাজন এনেছিল ফায়ার। কিন্তু হ্যান্ডসেট বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি অপারেটিং সিস্টেম দুটি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে শুধু কিছু স্মার্ট টিভিতে রয়েছে হুয়াওয়ের হারমনিওএস।

হুয়াওয়ের অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড মন্তব্য করেছেন, ‘হারমনি ওএসকে তৈরিই করা হয়েছে যাতে এটি সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে সংযুক্তক হিসেবে কাজ করতে পারে, যেমনটা লক্ষ্য রয়েছে হুয়াওয়ের।’

‘হুয়াওয়ে অ্যাপলের দেখানো পথ অনুসরণের আশা করছে, একক একটি সফটওয়্যার থাকা যা সব দিকেই প্রসারিত করা সম্ভব, ইকোসিস্টেমে যারা আসবেন সেসব গ্রাহককেও একটি নিরবিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।’ - যোগ করেছেন উড।

পুরো ব্যাপারটিও সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া নিউজ এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুসারে, বছরের শেষ নাগাদ ৩০ কোটি ডিভাইস হারমনিওএস চালিত হবে বলে অনুমান করছে হুয়াওয়ে। 

মন্তব্য করুন