সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নামে-বেনামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। শুক্রবার রাতে তাদেরকে সিলেটের ওসমানীনগর থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর দক্ষিণ গ্রামের মৃত আব্দুল গিয়াস খানের ছেলে জাফরান খান (১৯) ও একই উপজেলার নিজ করনসী উত্তর পাড়া গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে তারেক হোসেন (২১)। পিবিআই জানিয়েছে, দুই বন্ধু স্কুলের গণ্ডি পার না করলেও সাইবার অপরাধে পাকাপোক্ত।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর  Muhima Begum নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন রোগাক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে সাহায্য চাওয়া হয়। একই বিকাশ নাম্বারে তারা ফেসবুক ও বিভিন্ন পেজে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানায়। ওইসব পোস্ট পিবিআই’র নজরে আসলে তারা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ওইসব পোস্ট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ায় জাফরান ও তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে ।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান সমকালকে জানান, ওসামনীনগর থানায় পিবিআই’র এসআই লিটন চন্দ্র পাল বাদী হয়ে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত করেছেন পিবিআই’র এসআই সুদীপ দাস।

পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান আরও জানান, বিকাশ ও নগদ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কত টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে তা নিশ্চিত হতে বিকাশ ও নগদ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।