পেগাসাস স্পাইওয়্যারে ফোনে আড়িপাতা নিয়ে আলোচিত ইসরায়েলি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও। সেই প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছিল নোভালপিনা ক্যাপিটাল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে লন্ডনভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে এনএসও-এর ভবিষৎ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নোভালপিনা কোম্পানির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপকে কিনে নিয়েছিল নোভালপিনা।

সম্প্রতি পেগাসাস কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্পাইওয়্যারটির সঙ্গে সঙ্গে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের নামও আলোচনায় আসে। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার নজরদারির অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোভালপিনার মালিকানাধীন রয়েছে, এস্তোনিয়ার ক্যাসিনো গ্রুপ, অলিম্পিক এন্টারটেইনমেন্ট ও ফ্রান্সের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এক্সও।

বন্ধ হতে যাওয়া নোভালপিনার যাবতীয় সম্পদ নগদে বিক্রি করে দেওয়া বা তৃতীয় কোনো কর্তৃপক্ষের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় পাচ্ছেন এর বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেগাসাস ব্যবহার করে হাজারও মানুষের ফোনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বা চেষ্টা করা হয়েছে। এমন ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের তথ্য পেয়েছিল প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংবাদ সংস্থা ফরবিডেন স্টোরিজ।

পরে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতা নিয়ে ওই নম্বরগুলো ধরে অনুসন্ধান চালায় বিভিন্ন দেশের ১৭টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সম্প্রতি পেগাসাস ব্যবহার করে যাদের ফোনে আড়িপাতা হয়েছে, তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমগুলো। এ তালিকায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, মানবাধিকারকর্মীরা রয়েছেন। এরপর থেকেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।