নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার গ্রামে স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ে একটি পুরুষ নীলগাই। বছরখানেক পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকায় ধরা পড়ে আরেকটি মাদি নীলগাই। দুটি নীলগাইকেই স্থানীয় অধিবাসীরা জবাই করার উদ্যোগ নিয়েছিল।

কিন্তু বন বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপে বেঁচে যায় সেগুলো। এদের একসঙ্গে রাখা হয়েছিল গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। সেই থেকে ১১ মাস ১১ দিন পর গত ১ আগস্ট এই নীলগাই পরিবারে এসেছে ফুটফুটে দুটি শাবক।

নিরাপত্তাজনিত কারণে শাবক দুটিকে দেড় মাস পর্যবেক্ষণে রাখার পর শুক্রবার সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আনন্দের এ খবর জানিয়েছে গণমাধ্যমকে।

পার্কের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, এ পার্কে আফ্রিকান সাফারির ভেতর রাখা নারী ও পুরুষ নীলগাই দুটি প্রথম দিকে একসঙ্গে মিশতে চাইত না। একটি আরেকটির সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করত। কিন্তু কিছুদিন পর নীলগাই দুটির সম্পর্ক খুব গভীর হয়ে যায়। একসঙ্গে ঘোরাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া করে তারা। লাফালাফি আর লুকোচুরিও খেলে। মানুষ দেখলে ঝোপঝাড়ের সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। এ ভূখণ্ড থেকে বিলুপ্তির দীর্ঘ ৮০ বছর পর পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে এই নীলগাই পরিবারে জন্ম নিয়েছে দুটি শাবক। নীলগাই আবারও এ দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অবশ্য পাশের দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে এখনও প্রচুর নীলগাই রয়েছে। ভারতে প্রায় এক লাখ নীলগাই রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের জুনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের বিহারের মোকামায় ফসল নষ্ট করছে- এই অজুহাতে হায়দরাবাদ থেকে ভাড়াটে শিকারি এনে ২৫০টিরও বেশি নীলগাইকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।

১৯৪০ সালে পঞ্চগড়ে শেষবারের মতো দেখা যায় গাঢ় ধূসর এবং প্রায় কালচে রঙের এ অঞ্চলের শেষ নীলগাইটিকে। এরপর বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল নীলগাইকে। তবে এবার আবারও এ প্রাণীটি এ দেশের আকাশের নিচে স্বচ্ছন্দ্যে বিচরণ করবে- এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।