স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে ফাঁদে ফেলত সাগর মিজি নামে এক যুবক। পরে তাদের বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যেত। সেখানে কৌশলে তাদের ধর্ষণ করা হতো। আর ধর্ষণে বাধা দিলে হত্যা করতেও পিছপা হতো না। এ কারণেই কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার ‘আমারি রিসোর্টে’ এক তরুণীকে হত্যা করে সাগর। অবশেষে শনিবার র‌্যাব-১০ এর একটি দল রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাব বলছে, সাগর একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ বা ক্রমিক ধর্ষক। অনেক নারীকে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেছে।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান সমকালকে বলেন, চতুর্থ শ্রেণি পাস সাগর নিজেকে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দিত। মেয়েদের ফাঁদে ফেলতে নিজেকে ব্যবসায়ী বা সরকারি কর্মকর্তা দাবি করত। ফেসবুকে তার তিনটি ভুয়া অ্যকাউন্ট রয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। অন্তত পাঁচজনকে ধর্ষণ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরেও অনেকে তার নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। লোকলজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি।

এ ব্যাপারে জানাতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জানান, সাগর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে আমারি রিসোর্টের ১০৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয়। হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলে- ২০ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী ঢাকা থেকে আসবে, তখন তাকে একটি ডাবল রুম দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত দিনে স্ত্রী পরিচয়ে ২৬ বছরের এক তরুণীকে সেখানে নিয়ে যায় এবং ৪০৮ নম্বর কক্ষে ওঠে। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের ডেকে কোনো সাড়া পায়নি। সন্দেহ হওয়ায় তারা মিস্ত্রি ডেকে কক্ষের দরজা ভেঙে ওই তরুণীর মৃতদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাগর জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই তরুণীকে স্ত্রী পরিচয়ে রিসোর্টে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের সময় ভুক্তভোগী বাধা দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তরুণীর গলা চেপে ধরে দেওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তখন আবারও তার গলা চেপে ধরে পাশে থাকা গ্লাস দিয়ে দুই-তিনবার মাথায় আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনাটি ছায়াতদন্তের সূত্র ধরে র‌্যাব-১০ এর একটি দল র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহায়তায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড টোলপ্লাজা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনসহ মোট তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজারে নিহত তরুণীর বাড়ি পার্বত্য অঞ্চলে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এক কর্মকর্তা।