দেশজুড়ে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া অনিবন্ধিত ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ও সমবায় সমিতির ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি অননুমোদিত ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়েছে। এ কমিটি সারাদেশে অনিবন্ধিত সুদ কারবারিদের তালিকা তৈরি করে তা বন্ধের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। পাশাপাশি অপর এক আদেশে চড়া সুদে ঋণ দেওয়া স্থানীয় মহাজনদের তালিকা তৈরি করে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতেও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একটি জাতীয় দৈনিকে 'চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা' শিরোনামে গত ২৮ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পরে ওই প্রতিবেদনটি যুক্ত করে জনস্বার্থে ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ স্যায়েদুল হক সুমন। এরই ধারাবহিকতায় সোমবার ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনের পক্ষে রিটকারী নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক চৌধুরী শুনানি করেন। রিটে ৬৪ জেলার ডিসি-এসপিসহ ১৩৬ জনকে বিবাদী করা হয়।

রিটে বলা হয়, দেশের প্রত্যেকটি এলাকায়, প্রতিটি গ্রামে সমবায় সমিতির নামে সুদের ব্যবসা চলছে। আবার অনেকে ব্যক্তিগতভাবে ঋণ দেওয়ার নামে উচ্চহারে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। সাধারণ মানুষ এসব সুদের কারবারিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আদায় করা সুদের পরিমাণও আকাশছোঁয়া। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে তারা সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবিধান ও আইন অনুসারে এ ধরনের ব্যবস্থা অবৈধ।