নিজেকে ৪০তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিতেন সোলাইমান কবির। এই পরিচয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে প্রেমের ফাঁদ পাতেন তিনি। এভাবে ফাঁসিয়ে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন মেয়ের বাড়িতে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় পুলিশকে জানালে ধরা পড়েন প্রতারক সোলাইমান। এমনটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলপুরে।

বুধবার সকালে পুলিশ সোলাইমানকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোলাইমান নিজেকে এএসপি পরিচয় দিয়ে ফুলপুরের রূপসী গ্রামের অনার্স পড়ূয়া এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কলেজছাত্রীকে পরিচয় দেন তার বাড়ি রাজধানীর উত্তরায়। সেখানে তার পাঁচতলা বাড়ি আছে। কিন্তু সোলাইমান শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার কুচনিপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিজের পরিচয় গোপন করে কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিলে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে সোলাইমানকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রস্তাব নিয়ে ওই তরুণীর বাড়িতে একাই হাজির হন তিনি। কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তার বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফুলপুর থানার ওসির কাছে ফোন দেয় মেয়েটির পরিবার। তার সঙ্গে ওসি কথা বলেন। তখন তার বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ওই দিন রাতেই পুলিশ সোলাইমানকে হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে পুলিশের সরকারি বুট, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সোলাইমানের মুঠোফোন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে এএসপি পরিচয়ে অন্তত ৪০ তরুণীর সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ পেতেছেন সোলাইমান। বিভিন্ন অজুহাতে তরুণীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও উপহার গ্রহণ করতেন। তবে কোনো মেয়েকে বিয়ে করার তথ্য পায়নি পুলিশ। এ অবস্থায় ফাঁদে পড়া তরুণীদের খুঁজে বের করে তাদের সতর্ক করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

এই প্রতারকের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার ফুলপুরের তরুণীর পরিবার একটি মামলা করে। এ মামলায় বুধবার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামানের আদালতে তার রিমান্ড শুনানি হয়।

ফুলপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুয়া এএসপি সেজে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন সোলাইমান। বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসে ধরা পড়েছেন। এ ধরণের প্রতারকদের কাছ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।