বিদেশ থেকে হ্যান্ডসেট কিনে আনলে কিংবা দেশের বাজার থেকে অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট কিনলেও এখন আর ব্যবহারকারীকে নিবন্ধন করতে হবে না। সেটটিতে সিমকার্ড ইনস্টল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি বিটিআরসির এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। 

বৃহস্পতিবার নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা সমকালকে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি আরও জানান, ব্যবহারকারী যেন হয়রানির শিকার না হন সেজন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটে সিমকার্ড ইনস্টল করলে বা নেটওয়ার্কে সচল হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিটিআরসি থেকে একটি সতর্কতামূলক মেসেজ গ্রাহককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। এই বার্তা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহক যথাযথ নিয়মে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধন না করলে তা নেটওয়ার্কে আর সচল থাকবে না- এমন তথ্যও জানানো হয়। 

বিদেশ থেকে কেনা হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের নিয়ম জানানোর পাশাপাশি দেশের বাজার থেকে কেনা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নিবন্ধন না থাকলে হ্যান্ডসেট বিক্রেতা সেই ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন, সে কথাও জানানো হয়েছিল বিটিআরসির আগের সিদ্ধান্তে। ওই সিদ্ধান্তেরই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

মোস্তাফা জব্বার জানান, এনইআইআর তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল দেশে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের ডাটাবেজ তৈরি করা। এই ডাটাবেজ তৈরি হওয়ার পর হ্যান্ডসেট দেশে উৎপাদন কিংবা আমদানি উভয় ক্ষেত্রেই আগে থেকে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসিতে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। সেসব আইএমইআই নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়ে যায়। এখন পহেলা অক্টোবর থেকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর উপলব্ধি করা গেল যে ওই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবহারকারী হয়রানির শিকার হচ্ছে। যেমন কেউ বিদেশ থেকে হ্যান্ডসেট নিয়ে এলে বা কেউ কাউকে হ্যান্ডসেট উপহার দিলে ব্যবহারকারীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গ্রাহক এনইআইআর-এর কারণে গ্রাহক বিড়ম্বনার শিকার হোক এটা মোটেই কাম্য হতে পারে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ব্যবহারকারী হ্যান্ডসেট কিনে সিমকার্ড ইনস্টল করার পর হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে সচল হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ব্যবহারহারীকে আর নিবন্ধন করতে হবে না।

এ সিদ্ধান্তের ফলে আবারও চোরাই পথে হ্যান্ডসেট আসা উৎসাহিত হবে কি-না জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, চোরাচালান বন্ধের দায়িত্ব ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কিংবা বিটিআরসির নয়। এ দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। তারা চোরচালনা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এ কারণে একটা চিন্তা করা হয়েছে যে, যেসব হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে সচল হওয়ার পর এনইআইআর ডাটাবেজে আইএমইআই-এর নিবন্ধন পাওয়া যাবে না, সেগুলোর তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হবে। তারা তখন তাদের নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে।

তিনি জানান, বিদেশ থেকে দু'টি হ্যান্ডসেট বিনা শুল্কে আনা যাবে। দু'টির বেশি হ্যান্ডসেট নিয়ে আসা হলে নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক দিতে হবে।