বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কানসাই (জাপান) শাখা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ৫০ বছর ও মহান বিজয় দিবস পালন করেছে। 

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রোববার আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কানসাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাহদাত মোহাম্মদ সায়েম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পর্যায়ক্রমে কানসাই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আর এ সরকার রবিন, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংঠনিক সম্পাদক মাহবুব বাঁধন ও কানসাই যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান আকাশ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদ এবং ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এসময় শুভেচ্ছা বক্তৃতায় কানসাই আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। 

বাংলাদেশ পাক হানাদারদের সাথে মাত্র ৯  মাসে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে যা কষ্টার্জিত হলেও পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ‘বিরল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী খান খসরু স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতার দূরদর্শী নেতৃত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত আত্মত্যাগ এবং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। 

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এবছর নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটেগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছি। যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর।’ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অর্জনসমূহ উপস্থাপন করে তিনি জাতির পিতার সমৃদ্ধ সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন সোনার বাংলা বাস্তবায়নে প্রবাসীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, ‌‘আমাদের সবার উচিত দেশের ইতিহাস জানা। বর্তমান তরুণ ও নতুন প্রজন্মের অনেকেই আমাদের গৌরবময় সোনালী ইতিহাস ভালো করে জানে না।’ 

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চির সমুন্নত রাখা ও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য তিনি প্রবাসী বসবাসবাসরত ভাই বোনদের প্রতি আহ্বান জানান। 

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহান ত্যাগ ও আত্মদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের এই বীরগাঁথা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সভাপতি আবু সাদাত মো. সায়েম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্ট ঘাতকের হাতে শহীদ জাতির পিতার পরিবারের সব সদস্য, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। 

তিনি জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রম ও গতিশীল নেতৃত্বের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ বিশ্বের জন্য মডেল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার এবং জাপানে বাংলাদেশের মর্যাদা অটুট রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, কানসাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শাখার উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য বিচারপতি মমতাজ ঊদ্দিন আহমাদ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোসফাকু রহমান সবুজ, আমিনুল ইসলাম রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ-উল-হাসান, ড. লুৎফর রহমান মাসুম, ড. মো: আশরাফুজজামান রোমেল, তরুন জাপান আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসাইন, ড.মারুফ হক খান ড. বজলুল রশীদ হিরা, সহ সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহফুজুল করিম, কানসাই যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল আজাদ রাজু, জাপান ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল ইসলাম দিদার ও ওসাকা ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন সাকিব। 

আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জন্য এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয় এবং বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কেকে কাটা হয়। পরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।