করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে থাকা বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবার বইমেলায় ঢুকতে পাঠক-ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের টিকার সনদ দেখাতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা সমকালকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই দিন এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন,‘যেখানে খেলাধুলা আছে সেখানে টিকা সনদের পাশাপাশি টেস্টের সনদও লাগবে। এগুলো বইমেলায়ও দেখাতে হবে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বইমেলা পেছানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতই আমরাও চলমান পরিস্থিতির বাইরে নই।’

এরপর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা সমকালকে বলেন, ‘এবার বইমেলায় আসতে অবশ্যই টিকার সনদ দেখাতে হবে সবাইকে। বইমেলায় যারা স্টল নিচ্ছেন .. প্রকাশক, বই বিক্রেতাসহ সবাইকে করোনার টিকার সনদ দেখাতে হবে। বইমেলার আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে টিকার বুথ বসানো হচ্ছে। বইমেলা সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিকা নিতে হবে। যারা টিকা নেননি এখনও, তারা এখান থেকে টিকা নিতে পারবেন।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বইমেলা দুই সপ্তাহ স্থগিত করেছে। গত বছরের মতো এবারও বইমেলা ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে না। কবে বইমেলা শুরু হবে তা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রুখতে শুক্রবার সারাদেশে ৫টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করার পাশাপাশি সব ধরণের জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের কঠোরতা আরোপের কথা জানিয়েছে সরকার।

জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ, অনুষ্ঠানগুলোতে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেবন, তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। 

এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি অফিস,শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করতে হবে।