তারকাভরা ঢাকার বিপক্ষে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০১ রান। কোনো অঘটন ছাড়াই তিন উইকেটের বিনিময়ে সহজ সেই লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে সিলেট সানরাইজার্স। রান তাড়া করতে নেমে ১৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিলেট। এটি চলতি আসরে তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে চতুর্থ ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় পরাজয়।

এই ম্যাচ দিয়ে এবারের বিপিএলে যাত্রা শুরু হয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার। দীর্ঘ ৪০২ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেই বল হাতে দলকে এনে দিলেন প্রথম ব্রেক থ্রুও। কিন্তু জয় নিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছাড়া হলো না তার। ব্যাটারদের ভয়াবহ ব্যর্থতায় মাত্র ১০০ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল মিনিস্টার ঢাকা।

মামুলি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করে লেন্ডল সিমন্স ও এনামুল হক বিজয়। দলীয় ২১ রানে এই জুটি ভাঙেন দীর্ঘদিন পর বোলিংয়ে ফেরা মাশরাফি। সিমন্সকে রুবেলের ক্যাচ বানান তিনি। ২১ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যারিবীয় ওপেনার।

এরপর মোহাম্মদ মিঠুনকে সাথে নিয়ে এগুতে থাকেন বিজয়। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৫৯ রান পর্যন্ত। ১৫ বলে তিন চারে ১৭ রান করে মুরাদের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ দেন মিঠুন। এরপর অবশ্য সিলেটকে আর বেগ পেতে দেয়নি তৃতীয় উইকেট জুটিতে এনামুল হক বিজয় ও কলিন ইনগ্রাম। দুজনে দলকে নিয়ে যান জয়ের খুব কাছাকাছি। জয় এক রান দূরে থেকে বিদায় নেন এনামুল হক বিজয়। ৪৫ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রান করে তিনি হন মাশরাফির শিকার।

জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু নির্বিঘ্নে সারেন কলিন ইনগ্রাম ও রবি বোপারা। ১৯ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ২১ রানে অপরাজিত থাকেন কলিন। ২ বলে এক রান করেন রবি বোপারা। বল হাতে ঢাকার হয়ে মাশরাফি দুটি ও হাসান মুরাদ নেন এক উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ঢাকা। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরে যান তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। শেহজাদ(৫), তামিম(৩) ও জহুরুল(৪)। পাওয়ারপ্লেতে ঢাকা ৩ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ২২ রান।

তিন নম্বরে নেমে টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকেন নাঈম। অন্যপ্রান্তে রান তুলতে সংগ্রাম করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তার ব্যাটেই ইনিংসের ১১তম ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ হয় ঢাকার। এই জুটি থেকে আসে ৪০ রান। তবে ধীর গতিতে ব্যাট করতে থাকা নাঈম ৩০ বলে ১৫ রান করে নাজমুল অপুর প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন। এর চার বল পরে আন্দ্রে রাসেলও ফেরেন অপুর বলে এলবি হয়ে। এতেই ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারায় ঢাকা।

স্কোরবোর্ডে ৯ রান যোগ হতেই অপুর তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরতে হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে তিন চারে ৩৩ রান করেন ঢাকার অধিনায়ক। এরপর শুভাগত হোম ২১ আর শেষ দিকে রুবেল হোসেন ৬ বলে ১২ রান করলে ঢাকার সংগ্রহ ১০০ ছুঁতে পারে। তবে নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাটও করতে পারেনি ঢাকা। ১৮.৪ ওভারে ১০০ রানে অলআউট হয় মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।

সিলেট সানরাইজার্সের হয়ে দুর্দান্ত বল করেন নাজমুল ইসলাম অপু। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া তাসকিন নেন তিন উইকেট ও গাজীর শিকার ২ উইকেট।

মিনিস্টার ঢাকা:

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, নাঈম শেখ, জহুরুল ইসলাম, শুভাগত হোম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, হাসান মুরাদ, ইসুরু উদানা, মোহাম্মদ শাহজাদ এবং আন্দ্রে রাসেল।

সিলেট সানরাইজার্স:

লেন্ডল সিমন্স, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিঠুন, কলিন ইনগ্রাম, এনামুল হক বিজয় (উইকেটরক্ষক), নাজমুল ইসলাম, রবি বোপারা, সোহাগ গাজী, সানজামুল ইসলাম, মুক্তার আলী এবং তাসকিন আহমেদ।