তরুণ আইসিটি শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ব-পেশাবাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বিশেষায়িত আইসিটি একাডেমি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশে বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাওয়া প্রযুক্তি ও সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রথম আইসিটি একাডেমি স্থাপন করেছে কোম্পানিটি। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল ই) ভবনের ষষ্ঠতলায় হুয়াওয়ে গড়ে তুলেছে সর্বশেষ প্রযুক্তির সম্মিলনে 'হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি একাডেমি'।

জানা গেছে, সারাবিশ্বে এ রকম ৯ শতাধিক আইসিটি একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রতিবছর এসব একাডেমি থেকে ৪৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বের হবেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ অনেক দেশে একাডেমি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিশেষায়িত এ ল্যাবে আধুনিক কারিগরি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে উচ্চ গতির ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি, যার মাধ্যমে সারাবিশ্বের ১২ শতাধিক প্রশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। ভিন্ন ভিন্ন ১৯টি বিষয়ের ওপর ৮৩টি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম থাকবে এখানে। আর এ কোর্স ও সার্টিফিকেশন সমন্বয় করবে হুয়াওয়ে অথরাইজড ইনফরমেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক একাডেমি (এইচএআইএনএ), যা মূলত এই হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি একাডেমি। এ আইসিটি একাডেমি থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের গ্রেড, যেমন- অ্যাসোসিয়েট, প্রফেশনাল ও এক্সপার্ট সার্টিফিকেট পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারের জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে তৈরি করতে পারবেন এবং সব শেষে তাদের জন্য জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে।


একাডেমিতে যারা প্রশিক্ষণ দেবেন, তারা সবাই বুয়েটের শিক্ষক। হুয়াওয়ের এক্সপার্টরা প্রথমে বুয়েটের সংশ্নিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এরপর ওই শিক্ষকরা শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রতিবছর এ একাডেমিতে ১০০ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ পাবেন।

বুয়েটের ট্রিপল ই বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের ল্যাবে রয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা। ল্যাবে এসে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। এতে করে তারা ফাইভজিসহ নতুন প্রযুক্তি খাতে তারা লিড দেবে। প্রথাগত অন্য ল্যাবের সঙ্গে হুয়াওয়ের একাডেমি পার্থক্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখানে ইন্ডাস্ট্রি মানের ডিভাইস ও যন্ত্রাংশ বিষয়ে সরাসরি শেখার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। এখানকার শিক্ষার্থীরা যখন চাকরিতে যাবে, তখন তারা এ প্রযুক্তিগুলোই পাবে। ফলে এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই শিক্ষার্থীরা সরাসরি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজে যোগ দিতে পারবে। ফলে এ ল্যাব তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।

একাডেমি স্থাপনে বুয়েটের সঙ্গে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে বুয়েট ও হুয়াওয়ে। বুয়েট কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিনঝিজুন এবং বুয়েট উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) চিফ অপারেটিং অফিসার তাও গুয়াংইয়াও।

তাও গুয়াংইয়াও বলেছিলেন, অলাভজনক শিক্ষা প্রোগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ একাডেমি দুটি বিষয় সামনে রেখে কাজ করবে। এর মধ্যে একটি হলো আইসিটি খাতের চাহিদা পূরণে ট্রেনিং ও লার্নিং সলিউশন প্রদান, অন্যটি আইসিটি খাতের জন্য একটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরি। আর এ কাজটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, আমরা জিএসএম ল্যাব প্রতিষ্ঠাকালে হুয়াওয়ের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছিলাম। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমির মতো একটি প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে আমাদের বিপুল চালিকাশক্তি জোগাবে। বিগত দশকগুলোতে পাঠদানের ক্ষেত্রে বুয়েট যে গুণগত মান ধরে রেখেছে, তার সঙ্গে এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, 'যে কোনো দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষা, বিশেষত আইসিটি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। এ জন্য হুয়াওয়ে এবং বুয়েট যে পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা অনেক আশাব্যঞ্জক।'