ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সংকট নেই এবং আগামীতেও হবে না। চাহিদা বৃদ্ধির দিকে খেয়াল রেখে ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেটের দাম কমাতে বাংলাদেশ এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার, টেলিযোগাযোগ ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ-টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন এবং ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক। ইন্টারনেটের দামে এসডিজির লক্ষ্যপূরণে পথযাত্রা সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।

মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের রূপরেখার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ এক রেট’ নীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার মাসে ইন্টারনেটের দাম কমানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এটা দেশের জন্য বড় অর্জন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সংকট হবে না। কারণ বর্তমানে ব্যান্ডউইথের যে সক্ষমতা আছে এবং যে হারে চাহিদা বাড়ছে, তা দিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সি-মিই-উই-৬ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হবে, ফলে তখন সক্ষমতা আরও অনেক বেড়ে যাবে। যে কারণে চাহিদা অনেক বাড়লেও যোগানের কোনো ঘাটতি হবে না।

তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে যখন ব্যান্ডউইথের ব্যবহার এক হাজার জিবিপিএস থেকে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেল, তখনও কোনো সংকট হয়নি, বিষয়টি টেরও পাওয়া যায়নি। এর কারণ ছিল বাংলাদেশের চাহিদার সঙ্গে ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ছিল।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তা মিস করত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশ কোনো সুযোগই মিস করেনি। যে কারণে বাংলাদেশ সময়মত সি-মিই-উই-৫ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়েছে এবং সি-মিই-উই-৬ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি সীমিত জনবল নিয়েও সফলভাবে ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ এক রেট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এখন বিটিআরসি গুণগত মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ব্যবহারকারীর স্বার্থই বিটিআরসির কাছে প্রধান।

টিআরএনবি সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে এখনও ইন্টারনেট মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত নয়। ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্নিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ করার আহবান জানান।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, এক দেশ এক রেট আইএসপিদের পাশাপাশি ট্রান্সমিশন সেবাদাতা এনটিটিএন এবং ইন্টারনেটের পাইকারি বিক্রেতা আইআইজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।