অনলাইনে কেনাবেচায় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কমানোর দাবি করেছেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেছেন, বেশি ভ্যাটের কারণে অনলাইনে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা অনলাইন বাজার সম্প্রসারণে বাধা। সরকার এ ভ্যাট কমালে এ খাত যেমন সম্প্রসারণ হবে, তেমনি আসবে নতুন বিনিয়োগ। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।

ফাহিম মাশরুর বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সিইও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি। সম্প্রতি সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামো অনুযায়ী অনলাইনে যে পণ্য এক হাজার টাকায় বিক্রি হয় তাতে সরকারকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হয়। এর মধ্যে পণ্যের দামে ভ্যাট ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ টাকা। সরবরাহ চার্জে ভ্যাট ১৫ শতাংশ। ঢাকার মধ্যে সাধারণত ১০০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ১৫০ টাকা। যদি ঢাকার বাইরে সরবরাহ হয় তাহলে ২২ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। উৎসে কর দিতে হয় ৩ শতাংশ করে, অর্থাৎ ৩০ টাকা। আর কোম্পানিগুলোর বিক্রির ওপর নূ্যনতম আয়কর আছে দশমিক ৬ শতাংশ। এতে কর হয় ৬ টাকা। সব মিলিয়ে ১০৮ টাকা কর দিতে হচ্ছে। একই পণ্য দোকানদাররা বিক্রি করলে কোনো বাড়তি খরচ তাদের লাগছে না। বেশি করের কারণে অনলাইনে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতাকে ডেলিভারি বাবদ খরচ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন অনলাইনে কম দামে পণ্য বিক্রি করা যায়। এ ধারণা ভুল। যারা সৎ এবং আইন মেনে ব্যবসা করছে তাদের খরচ বেশি। অনলাইনে কেনাবেচা না বাড়ার মধ্যে পণ্যের বাড়তি দাম অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বাজার বাড়ছে না। এজন্য অনলাইন বিক্রিতে ভ্যাট প্রত্যাহার কিংবা কমানো উচিত। এতে নতুন করে প্রতি বছর বাজার বড় হবে ৫০ শতাংশ হারে। নতুন উদ্যোক্তারা আসবেন, কর্মসংস্থান হবে। ফেসবুক পেজে যারা ব্যবসা করছেন তারাও আসবেন।

তিনি বলেন, ই-কমার্স থেকে সরকার বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অনলাইনে বেচাকেনায় ভ্যাট ছাড় দিলে মোট রাজস্ব কমবে না। পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়বে। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব সংগ্রহ ঠিক থাকবে।

ফাহিম মাসরুর আরও বলেন, বর্তমানে পণ্যের সরবরাহ খরচ অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে ২০০, ৫০০ বা এক হাজার টাকার পণ্যে ১০০ বা ১৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জ দিতে হয়। ক্রেতার কাছে এটি বাড়তি খরচ মনে হয়। ফলে ই-কমার্সের বাজার বাড়ানোর জন্য ডেলিভারি চার্জ কমানো দরকার। সেজন্য সরকারের ডাক বিভাগকে কার্যকর করা যেতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি কম। দ্রুত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা দরকার। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় সহজ ইন্টারনেট প্রাপ্তির জন্য ব্রডব্যান্ড বিস্তৃত করা দরকার। তিনি বলেন, এখনও ই-কমার্স শহরভিত্তিক। মোট অর্ডারের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ আসে ঢাকা শহরের ক্রেতার কাছ থেকে। অন্যান্য শহর ও গ্রামাঞ্চলে ই-কমার্স ছড়িয়ে দিতে সহজ ইন্টারনেট প্রাপ্তি ও পরিবহন খরচ কমানো জরুরি। এ ছাড়া ই-কমার্স থেকে মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা দরকার। বিশেষ করে মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়া, সময়মতো পণ্য পাওয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ