চীনের সরকারি অফিসে ব্যবহার করা যাবে না অ্যাপল, মাইক্রোসফট, ডেল, এইচপির মতো বিশ্বসেরা কোম্পানির কম্পিউটার। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্প্রতি বিদেশি প্রতিষ্ঠান নির্মিত কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে চীন সরকার।

ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ সময়ে চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার পণ্য উৎপাদন বাড়াবে দেশটি। ইতোমধ্যে চলতি মাসের শুরুতেই নির্বাচিত সরকারি অফিসে এ আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারও বিধিনিষেধের আওতায় আসছে।

চীনের এ নিষেধাজ্ঞায় লাভবান হবে স্থানীয় নির্মাতা লেনোভো, হুয়াওয়ে ও ইন্সপুর। মাইক্রোসফট ও এডোবির মতো সফটওয়্যারের পরিবর্তে চীনা কিংসফট ও স্ট্যান্ডার্ড সফটওয়্যারের চাহিদা বাড়বে। কম্পিউটারে উইন্ডোজের বিকল্প লিনাক্সভিত্তিক মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারে জোর দিচ্ছে চীন। তবে বর্তমানে হার্ডওয়্যার পণ্যের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ডিভাইসে কেবল নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

চীনের অভ্যন্তরে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ উৎপাদনে প্রয়োজন সাপেক্ষে বিদেশি যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাবে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন সাপেক্ষে আগামীতে সব ধরনের কম্পিউটার যন্ত্রাংশও আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারে দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বড় ধরনের প্রযুক্তি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে চীন, যার শুরুটা হয়েছিল চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও জেডটিইতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি হারায় হুয়াওয়ে। এতে করে স্মার্টফোন বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। হপ্রযুক্তি প্রতিদিন ডেস্ক