বহনযোগ্য মিউজিক প্লেয়ার আইপড আর তৈরি করবে না অ্যাপল। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলার পর অ্যাপলের যুগান্তকারী মিউজিক ডিভাইসটির পথ চলা শেষ হতে যাচ্ছে। ২০০১ সালের অক্টোবরে আত্মপ্রকাশের পর এই ডিভাইসটি সংগীতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। দুই দশকের যাত্রায় আইপড বিভিন্ন নামে, রূপে ও আকারে এসেছে পকেট সাইজের আইপড। আইপডের সর্বশেষ সংস্করণ ছিল আইপড টাচ। তবে নতুন করে তৈরি বন্ধ হলেও যতদিন স্টক থাকবে, ততদিন বিক্রি করা বন্ধ হবে না। আইপড আবিস্কারক এবং অ্যাপলের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট টনি ফ্যাডেল বলেছেন, আইপড তৈরি না হলে হয়তো আইফোন তৈরি হতো না। আইপড আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। এটি স্টিভ জবসেরও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল।

আইপড ক্ল্যাসিকের পরে এটির পলিশ করা স্টিল ফ্রেম এবং আইকনিক ক্লিক হুইলের সঙ্গে অ্যাপল ছোট আকারের আইপড মিনি এনেছিল অ্যাপল, যার পর আরও ছোট আকারের আইপড ন্যানো চালু করা হয়। ২০০৫ সালে অ্যাপল আইপড শাফল আনে অ্যাপল। এটি একটি এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইস, যা ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করে এবং এটি স্ট্ক্রিন ছাড়াই প্রথম আইপড মডেল ছিল। তবে ২০১৭ সালে আইপড ন্যানো ও শাফলের উৎপাদন বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাপল প্রথম আইফোনের ঘোষণা করার কয়েক মাস পর আইপড টাচ চালু করে। এটি একটি মাল্টি-টাচ ডিভাইস, এই ডিভাইসে ওয়াইফাই, সাফারি ব্রাউজার, ইউটিউব ফিচার রয়েছে। বর্তমানে আইপড টাচ মডেলটির সপ্তম এবং শেষ প্রজন্মের বিক্রি চলছে।

আইফোন, আইপ্যাডের মতো ডিভাইস বাজারে এসেছে আইপডের কয়েক বছর পরে। আইফোন কিংবা আইপ্যাডে স্মার্টফোনে বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি মিউজিকের সুবিধাও পাওয়া যায়, ফলে আইপডের গুরুত্ব কমতে শুরু করে। এ ছাড়া স্পটিফাই, আইটিউনস, প্রাইম মিউজিকের মতো মিউজিক স্ট্রিমিং সেবার পাশাপাশি দ্রুত, সাশ্রয়ী ইন্টারনেটের কারণেও আইপডের গুরুত্ব কমতে থাকে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে প্রায় ২৪ শতাংশ আইপড বিক্রি কমেছে। পরবর্তীকালে আইপড বিক্রি হ্রাসের এ ধারা অব্যাহত ছিল। অ্যাপল গত বছর ৩০ লাখ আইপড বিক্রি করলেও আইফোন বিক্রি ছিল ২৫ কোটি ইউনিট। এদিকে আইপড বন্ধ হলেও অ্যাপল মিউজিকের সেবা অন্যান্য ডিভাইসে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, হোমপড মিনি এবং ম্যাক, আইপ্যাড এবং অ্যাপল টিভি।