ইন্টারনেট বিশ্বে প্রত্যেক ব্যবহারকারীই যেন পণ্য! ইন্টারনেটে ব্যবহারকারী কী খোঁজেন, কোথায় যান, কী করেন এরকম হরেক তথ্য সংগ্রহ করে সেবাদাতা কোম্পানিগুলো। ডিজিটাল বাণিজ্যের স্বার্থে ব্যবহারকারীর এসব ব্যক্তিগত তথ্য দিনে শত শতবার হাতবদল হয়। সম্প্রতি এ সত্যটি আবারও সামনে এনেছে আইরিশ কাউন্সিল ফর সিভিল লিবার্টিস (আইসিসিএল) নামে অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৭৪৭ বার হাতবদল হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য এটি ৩৭৬ বার।

জনপ্রিয় ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে লাগামহীনভাবে শেয়ার করে থাকে। আইসিসিএলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. জনি রায়ান বলেন, কোন ডিভাইসে ওয়েবপেজ লোড হচ্ছে, ডিভাইসটির অবস্থান কোথায় এবং ব্যবহারকারী আগে একই বিষয়ের কোন কোন ওয়েবসাইটে গেছেন, এসব তথ্যও হাতবদল হয়। ওয়েবপেজে বিজ্ঞাপনের চাহিদা তৈরি এবং দাম নির্ধারণে এসব তথ্য কাজে লাগে।

প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে ঘটা এ ঘটনাকে তিনি 'ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডাটা ফাঁস' হিসেবে উল্লেখ করেন। ইন্টারনেট থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি), অ্যালফাবেট (গুগল ও ইউটিউবের মূল কোম্পানি) অন্যতম। ২০২১ সালে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে অ্যালফাবেটের আয় প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলার এবং মেটার আয় ১১৪ বিলিয়ন ডলার। এ সময় মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম টুইটারও চার বিলিয়নেরও বেশি আয় করেছে। অবশ্য জরিপটি পরিচালনায় শুধু গুগলের ডাটা নিয়ে কাজ করেছে সংস্থাটি। মূলত বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডাটা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শেয়ার করার বিরোধিতা করে আসছে অলাভজনক সংস্থা আইসিসিএল। এ লক্ষ্যে 'ডাটা প্রটেকশন কমিশন'-এর সঙ্গে আইনি লড়াইও চালাচ্ছে সংস্থাটি। বিবিসি জানাচ্ছে, ব্যবহারকারীরা তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনেশুনে এভাবে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে শেয়ারের অনুমতি না দিলেও এটিই করে আসছে সেবাদাতারা। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল।