আজ থেকে ৩০ বছর আগে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ধর্মীয় স্থাপনায় ওই হামলা সূচনা করেছিল একটি ভয়ানক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার। ওই দাঙ্গায় দেশটির হাজার হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তিন দশক পরও ভারতীয় মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে আগের চেয়ে তারা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে অবস্থা এমন হয়েছে যে, ভারতের ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপনাগুলোর সবগুলোতেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চোখ পড়েছে। এমনকি তাদের নজর রয়েছে বিশ্বখ্যাত তাজমহলের দিকেও।

উগ্র হিন্দুদের এই দলটি বিশ্বাস করে, মুসলিম স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন মন্দিরের ওপর তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেগুলোকে উদ্ধার করে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা তাদের দায়িত্ব। এই মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য বারাণসীর শতাব্দী প্রাচীন জ্ঞানবাপি মসজিদ। বারাণসী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র। গত সপ্তাহে স্থানীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে অজুর জন্য নির্দিষ্ট পুকুরে 'শিবলিঙ্গ' পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর বিজেপি সদস্য ও মন্ত্রী কৌশল কিশোর দাবি করেন, মসজিদের জায়গায় এখন পূজা করার অর্থাৎ মন্দির তৈরি করতে হবে। ঘটনা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ জারি করেছেন, যে পুকুরে 'শিবলিঙ্গ' পাওয়ার দাবি করা হয়েছে, তার সত্যতা বিচারের জন্য শুধু ওই স্থানের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সে জন্য মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশে যেন বাধা দেওয়া না হয়। নামাজেও কোনো বাধা সৃষ্টি চলবে না। এএফপি।