সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে থাকা ইন্টারনেট কেবল দিয়েই ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাস পাওয়া যাবে বলে আশা করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক। গবেষকদের দাবি, সমুদ্রতলের কেবলকে 'সায়েন্টিফিক সেন্সর' হিসেবে ব্যবহার করে ভূমিকম্প ও সুনামির বিষয়ে আগাম জানা যাবে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির (এনপিএল) গবেষকরা সাগরতলের কেবল নিয়ে গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন।

ওই গবেষক দল ইতোমধ্যে কানাডার হ্যালিফ্যাক্স আর যুক্তরাজ্যের সাউথপোর্ট, ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ভূমিকম্প এবং স্রোতপ্রবাহে পরিবর্তন চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ক গবেষণার নিবন্ধ 'সায়েন্স ম্যাগাজিনে' প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রের তলদেশে নজরদারির জন্য স্থায়ী সেন্সর স্থাপনা ব্যয়বহুল হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ভূগর্ভস্থ ইন্টারনেট কেবলকে কাজে লাগানো যায়।

এটি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সমুদ্রতলের বিষয়ে জানাশোনার বিষয়ে দারুণ সহায়তা করতে পারে। গবেষকরা অপটিক্যাল কেবলের ছোট ছোট অংশকে আলাদা সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন। বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বজুড়ে শুধু সমুদ্রতলে থাকা কেবলগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৩ লাখ কিলোমিটারের বেশি। এনপিএল গবেষক ড. জিসেপ্পি মাররা বলেন, সমুদ্রতলের কেবলের দৈর্ঘ্য এ ধরনের গবেষণার জন্য দারুণ সুখবর। সমুদ্রতলের কম্পন, চাপ ও তাপের তারতম্যে কেবলগুলোর ভেতরের ডাটাপ্রবাহ প্রভাবিত হয়। এ পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করে ভূমিকম্প, সুনামির মতো তথ্যও পাওয়া সম্ভব।