২০০৭ সালে এক ক্রিসমাস পার্টিতে ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে শেরিল স্যান্ডবার্গের প্রথমবার দেখা হয়েছিল। তখন ফেসবুক একটি স্টার্টআপ হিসেবে পায়ের নিচের মাটি খুঁজে বেরাচ্ছে। এমন সময় স্যান্ডবার্গকে ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে ‘উপযুক্ত’ বলে মনে করেন জাকারবার্গ। এর পরের বছরের মার্চেই স্যান্ডবার্গকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয় ফেসবুক।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের গল্পটা কেবলই সফলতার। তিন বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় ফেসবুক। স্যান্ডবার্গের অধীনে গত ১৪ বছরে স্টার্টআপ থেকে ফেসবুক একটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু এই ‘সুখের সংসারে’ হঠাৎ যেন ‘ছন্দপতন’ হলো। ফেসবুকের সাথে ‘সম্পর্কের ইতি’ টানার ঘোষণা দিয়েছেন প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম এই শীর্ষ নারী নেতৃত্ব।

শেরিল স্যান্ডবার্গের ফেসবুক ছাড়ার সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তার চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে, কী কারণে ফেসবুকের সাথে দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি? ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার (সিওও) পদ থেকে পদত্যাগের কারণটা অবশ্য নিজেই জানিয়েছেন ৫২ বছর বয়সী এই মার্কিন নারী। নিজের গড়ে তোলা ফাউন্ডেশন ও জনকল্যাণমূলক কাজে সময় দেওয়ার জন্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন শেরিল। 

ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবসার স্থপতি বলা হয় শেরিলকে। তার কারণেই আজ বিশ্বব্যপী কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আয়ের সুযোগ পেয়েছেন। ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৪ বছর কাজ করার পর নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে শেরিল স্যান্ডবার্গ লিখেন, ১৪ বছর পর আমি মেটা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। যখন আমি মার্কের সাথে প্রথম দেখা করি, তখন আমি কোনো নতুন চাকরি খুঁজছিলাম না। আমি কখনই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারিনি যে, তার সাথে দেখা আমার জীবন কীভাবে পরিবর্তন করবে।

ফেসবুক পোস্টে স্যান্ডবার্গ বলেছেন, ২০০৮ সালে যখন আমি এই কাজটি নিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম পাঁচ বছর এখানে থাকব। কিন্তু ১৪ বছর পর জীবনের পরবর্তী অধ্যায় লেখার সময় এসেছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মেটার বিজ্ঞাপন বাজারে মন্দা ও টিকটকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই স্যান্ডবার্গ পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। তবে ৫২ বছর বয়সী শেরিল মেটার বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালে অষ্টম (প্রথম নারী) সদস্য হিসেবে ফেসবুকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

২০০৮ সালে শেরিল স্যান্ডবার্গ যখন ফেসবুকে যোগ দেন তখন জাকারবার্গের বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। ছবি- সংগৃহীত

২০০৮ সালে শেরিল স্যান্ডবার্গ যখন ফেসবুকে যোগ দেন তখন জাকারবার্গের বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। ফেসবুকে যোগ দেওয়ার পর এটিকে সামাজিক মিডিয়া জায়ান্টে পরিণত করার মূল চাবিকাঠি ছিলেন তিনি। ফেসবুককে একটি স্টার্টআপ থেকে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন পাওয়ার হাউজে রূপান্তরিত করতে মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যবসার অন্যতম স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবসার স্থপতি বলা হয় শেরিলকে। তার কারণেই আজ বিশ্বব্যপী কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আয়ের সুযোগ পেয়েছেন।

স্যান্ডবার্গের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, তার প্রস্থান একটি যুগের সমাপ্তি। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করেছেন স্যান্ডবার্গ। আজকের মেটার সাফল্যের পেছনে তার অনেক অবদান।

মেটার চিফ গ্রোথ অফিসার জাভিয়ের অলিভান স্যান্ডবার্গের স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে জানা গেছে। এদিকে শেরিল স্যান্ডবার্গের এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণার পর মেটার শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে।