সময় এসেছে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের। লক্ষ্য জয়ে কাজ করছে বেসিসের দুই হাজার সদস্য প্রতিষ্ঠান। সরকারি নীতিগত সহায়তা ও করণীয় নির্ধারণে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে : আইসিটি শিল্পের ভূমিকা’ শিরোনামে সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বক্তারা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিষয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বেসিসসহ সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানদের সাফল্যের গল্প উপস্থাপন করা হয়। ই-গভর্নেন্স নিয়ে বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সামিরা জুবেরী হিমিকা, স্টার্টআপ নিয়ে বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) ফাহিম আহমেদ, আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে বেসিসের উপদেষ্টা ও অ্যাডকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম ফারহান চৌধুরী, ই-কমার্স নিয়ে চালডাল ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম, ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস নিয়ে বেসিসের ফোর আইআর স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাহিদ হাসান এবং কনট্যাক্ট সেন্টার ও বিপিও খাত নিয়ে বাক্কোর সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ কথা বলেন।

সহ-সভাপতি (বেসিস) আবু দাউদ খানের সঞ্চালনায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: আইসিটি শিল্পের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক। আলোচক ছিলেন ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। অনলাইনে যুক্ত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।

ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০২১ সালে শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন নয়, আমরা অনুকরণীয় হতে পেরেছি। এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফলতার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের যে সক্ষমতা আছে, তাতে ইতিমধ্যে যা অর্জন করেছি তার থেকে কয়েক লক্ষগুণ সম্ভাবনা আছে। আমাদের রোবট ব্যবস্থাপনা করতে হবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তৈরি করতে হবে, হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা করতে হবে, আর এজন্য নিজেদের নতুন প্রযুক্তিতে সুদক্ষ করতে হবে। শুধু সফটওয়্যার রপ্তানিই বাজার নয়, সব ধরনের ডিজিটাল কার্যক্রমই বাজার। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বাংলাদেশই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে সংবিধানে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নির্দেশনা আছে। যা আমরা নিশ্চিত করছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনাময়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে শুধু ৫ বিলিয়ন ডলার নয়, ২০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। যা বাস্তবায়নের সুযোগ আমাদের দেশেই আছে। একটি ফোকাস গ্রুপের মাধ্যমে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সঙ্গে থাকবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার ব্যবসা না করে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে আমাদের শ্রমনির্ভর অর্থনীতিকে আজ শিল্প, সেবা ও প্রযুক্তি নির্ভরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনের নীতিগত দাবিকে আমলে নিয়ে বেসিসসহ এই খাতের করপোরেট ট্যাক্স অবকাশ সুবিধা ২০২৪ সাল থেকে ২০৩০ সাল অবধি বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংগঠনগুলো সহমত। বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট উইং প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে মাত্র ৭ শতাংশ অটোমেশন হয়েছে। ২০৩০ নাগাদ যা ৩০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। আমাদের সাবধানতার সাথে কর্মসংস্থান ঠিক প্রবৃদ্ধিতে রেখে অটোমেশন করতে হবে। আমাদের স্মার্ট উৎপাদন প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিত্যনতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্মার্ট উৎপাদনকে বাস্তবায়ন করতে পারে। আসছে ১০ বছরে গার্মেন্টস খাত ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছাবে। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোকে আমাদের চাহিদা পূরণে আরও সহায়ক হতে হবে।

সভাপতি (বেসিস) রাসেল টি আহমেদ বলেন, সাতটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বেসিস। সবচেয়ে জরুরি মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা বিআইটিএমকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তরে উদ্যোগ নিয়েছি। তা করা গেলে গার্মেন্টস খাতের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও যোগ্য জনবল তৈরি সম্ভব।

সভায় ‘বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যরা যাতে নিরবিচ্ছিন্ন ও দ্রুত বেসিসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ও সদস্যসেবা উন্নত ও কার্যকর হয় সেজন্য সেন্টারটি কাজ করবে। বিটিআরসি অনুমোদিত শর্ট কোড (১৬৪৮৮) চালু করা হয়। আয়োজক ছিল এডিএন টেলিকম ও ফ্লোরা টেলিকম।