মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্ত্রীকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে ঘিওরের কুস্তা গ্রামে (নদীর পাড়) এ ঘটনা ঘটে। বুধবার ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবুল হোসেন (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি স্বীকার করেছে স্ত্রী মাজেদা বেগমকে (৩৩) হত্যার পর শরীরে কাপড় মুড়িয়ে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। দু'দিন ধরে ডুবুরি দলের সদস্য ও পুলিশ নিখোঁজ মাজেদার সন্ধান পায়নি।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, কুস্তা গ্রামের ড্রেজার শ্রমিক আবুল সাত মাস আগে গোপনে একই উপজেলার বালিয়াবাঁধা গ্রামের মাজেদাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। রোববার কর্মস্থল সাভারের আশুলিয়া থেকে পোশাক কারখানার কর্মী মাজেদা স্বামীর বাড়ি আসেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ওইদিন রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশে ধলেশ্বরী নদীতে মাজেদাকে গোসল করার কথা বলে নিয়ে যায় আবুল। গোসলের একপর্যায়ে মাজেদাকে ডুবিয়ে হত্যা করে শরীরের কাপড় মুড়িয়ে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আবুল।

মাজেদার মা রহিমা বেগম (৬১) জানান, রোববার রাত থেকে মাজেদাকে খুঁজে না পেয়ে মেয়ের জামাতা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা কিছু জানে না বলে জানায়। নিখোঁজের দু'দিন পেরিয়ে গেলেও মাজেদার সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘিওর থানায় তিনি অভিযোগ করেন।

ঘিওর থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আবুলকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্ত্রীকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মঙ্গলবার নদীতে তল্লাশি করেও মাজেদার খোঁজ পায়নি। বুধবার নদীতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাজেদার সন্ধানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মাজেদার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। বুধবার আদালতের বিচারক আবুল হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।