ফুলেফেঁপে ওঠা ক্রিপ্টোমুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত। কয়েক মাস আগেও যে বিটকয়েনের দাম ছিল ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি তা টানা দরপতনে গতকাল ২১ হাজার ডলারের নেমে আসে। শুধু বিটকয়েন নয়, ইথারসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোমুদ্রার বাজারে ধস অব্যাহত আছে।

তবে দেড় বছর পর গত মঙ্গলবার দরপতনের নতুন রেকর্ড গড়ে বিটকয়েন ও ইথার। ৭.২ শতাংশ কমে ২০ হাজার ১৮৬ ডলারে নামে বিটকয়েনের দাম। এছাড়া একই সময় ইথারের দাম ১০ শতাংশ কমে নেমে আসে ১ হাজার ৭৫ ডলারে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের পর ইথারের সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা এটি। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রিপ্টোমুদ্রার বাজারে ভয়াবহ এ ধসে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে 'সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক'। ক্রিপ্টোমুদ্রা ঋণদাতা এ প্ল্যাটফর্মটি অস্থিতিশীলতার কারণে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে মুদ্রা উত্তোলন প্রক্রিয়া স্থগিত করে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ন্ত মুদ্রাস্ম্ফীতির পাশাপাশি সেলসিয়াস প্ল্যাটফর্ম থেকে সব উত্তোলন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

এ সময় বিটকয়েন ও ইথারের মতো সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোমুদ্রা ছেড়ে দেওয়ার হিড়িক পড়ে। এতে করে দ্রুত পড়তে থাকে উভয় মুদ্রার বাজারমূল্য। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কিউসিপি ক্যাপিটাল বলেছে, 'মুদ্রাস্ম্ফীতি এবং সেলসিয়াস দেউলিয়া হয়ে যাবে কিনা এমন শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত। এ আতঙ্কে ক্রিপ্টোবাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। এক ব্লগ পোস্টে সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক বলেছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই বাজার পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় উত্তোলন এবং দুই অ্যাকাউন্টের মধ্যে মুদ্রা স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এক হাজার ১৮০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেলসিয়াস নেটওয়ার্কের।