দেশে চলমান বেশ কয়েকটি ঘটনায় সরকারের নেওয়া অবস্থান ও কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারের অপ্রতুল কার্যক্রম, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত ও চাপ বৃদ্ধিতে প্রেস কাউন্সিল আইনের খসড়া প্রণয়ন, বিনা শর্তে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে আনার সুযোগদান প্রভৃতি।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত টিআইবির বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণকারীরা এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৭ জন অংশ নেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদের সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জোরালো আহ্বান জানান।
সভা শেষে এক ঘোষণাপত্রে বন্যা উপদ্রুত এলাকার দুর্যোগ মোকাবিলায় ঘাটতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আরও সক্রিয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দ্রুত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঘোষণাপত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইনের পাশাপাশি 'প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২২'-এর খসড়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তথা সব নাগরিকের বাক্‌-স্বাধীনতার চর্চার ক্ষেত্রে দেশে যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া খসড়া 'উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২২' নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যা ব্যক্তি-তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার নামে ব্যক্তির নিরাপত্তা ও স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সর্বোপরি প্রস্তাবিত 'গণমাধ্যম (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০২১'-এ গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষা, সংশ্নিষ্ট সুবিধাদি ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্যরা।
বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে দেওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, সংশ্নিষ্ট আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলা হয়, অবিলম্বে এটি বাতিল করে পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।