ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে ধর্মীয় গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এতে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনক্লুসিভিটি, কনভারজেন্স এন্ড অলটারনেট নেগোসিয়েশনস (ICAN) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক গ্লোবাল মিডিয়া এডুকেশন কাউন্সিলের (জিমেক) ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও জিমেক-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া কম্যুনিকেশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শেখ শফিউল ইসলাম তাঁর মূল প্রবন্ধে এ কথা বলেন।

শুক্রবার শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ড. ইসলাম বলেন, ধর্ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায়ই একই ধরনের গুজব লক্ষ্য করা যায় যা প্রায়ই জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতে ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া অনেক ইতিবাচক সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তথাপি এর অপব্যবহার সাম্প্রদায়িক বিরোধ, সামাজিক অসঙ্গতি ও বিশৃঙ্খলা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের সৃষ্ট এই অরাজকতা মোকাবেলায় দুই দেশের সরকারকেই ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ ভূমিকা না নিয়ে বরং বিভিন্ন সময়ে ‘রিয়াক্টিভ’ পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতির সাময়িক সামাল দিতে এ পদ্ধতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবিক মূল্যবোধ, আধেয় নির্মাণ ও প্রচারে নীতি-নৈতিকতার উপর পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রদান করতে হবে। 

এই সম্মেলন বিশ্ব মিডিয়া ও যোগাযোগ পরিসরে বৃহৎ আয়োজনগুলোর একটি। দিল্লি মেট্রোপলিটন মিডিয়া স্কুল ও অস্ট্রেলিয়ার ডিকেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব কম্যুনিকেশন এন্ড ক্রিয়েটিভ আর্টস যৌথ উদ্যোগে উক্ত সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিডিয়া বোদ্ধা, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ, পেশাদার এবং বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ডিএমই মিডিয়া স্কুলের অধ্যাপক আম্ব্রিশ সাপেনা।

সমগ্র সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ভূপাল, মধ্যপ্রদেশের মাখনলাল চতুর্ভেদী ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জার্নালিজম এন্ড কম্যুনিকেশন (এমসিইউ) এর উপাচার্য ও বিশিষ্ট মিডিয়া আলোচক অধ্যাপক কে. জি. সুরেশ। সহ-সভাপতি হিসেবে থাকছেন গ্লোবাল মিডিয়া এডুকেশন কাউন্সিলের (জিমেক) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার চৌধুরী।

মোট ২৬টি সেশনে প্রায় ১২৫টি গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে পঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সম্মেলনে ভারত, চীন, মরক্কো, অস্ট্রেলিয়া, ইউএসএ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভূটান, আর্জেন্টিনা, দুবাই, নাইজেরিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর ও ইজিপ্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মিডিয়া বিশেষজ্ঞ এবং পেশাদার গবেষকরা পবেষণাপত্র পাঠ করবেন। উল্লেখ্য, ডিএমই মিডিয়া স্কুল ও অস্ট্রেলিয়ার ডিকেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব কম্যুনিকেশন এন্ড ক্রিয়েটিভ আর্টস যৌথভাবে প্রতিবছর আইসিএসএসআর এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত প্রয়াসে এ সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।

উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধ্যাপক কে. জি. সুরেশ; বিচারপতি ভানওয়ার সিং (প্রাক্তন বিচারক, আলাহাবাদ হাই কোর্ট); ডিএমই মিডিয়া স্কুলের সাধারণ পরিচালক, সম্মেলনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার চৌধুরী; ডিএমই পরিচালক অধ্যাপক রবি কান্তি স্বামী; ডিএমই মিডিয়া স্কুলের প্রধান, অধ্যাপক ড. সুস্মিতা বালা; ডিন, এফএমইএইচ অধ্যাপক মাইথিলি গাঞ্জো, অ্যামিটি ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জলি জোস; অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল এর সদস্য ড. বিক্রান্ত কিশোর সম্পাদক আকরাম হক এবং ডিএমই মিডিয়া স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ড. মানাসভি মহেশ্বরি।

বিষয় : সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ড. শেখ শফিউল ইসলাম

মন্তব্য করুন