রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আইন বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালতের রুল জারি রয়েছে। এ অবস্থায় বিভাগে নিয়োগ পাওয়া নূর নুসরাত সুলতানা নামের এক শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়ে বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে আজ সোমবার। বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ জুন উচ্চ আদালতের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। পদোন্নতির বোর্ড সভার দিন চূড়ান্ত হওয়ায় বোর্ডের সদস্যদের আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ সদস্যের পদোন্নতি বোর্ডে রয়েছেন- উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগর। বোর্ডে এক্সপার্ট হিসেবে আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সরকার আলী আক্কাস। গত ৩০ জুন তাঁদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী মুসাব্বির হাসান রোমান। তিনি বলেন, নিয়োগের বৈধতার বিষয়ে রিট চলমান থাকায় পদোন্নতি বেআইনি।

রিটকারী নুরুল হুদার অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় আবেদনের নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলেও শিক্ষক হিসেবে নূর নুসরাত সুলতানা নিয়োগ পেয়েছিলেন। অথচ নুরুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল পুরস্কারপ্রাপ্ত হলেও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদোন্নতি বোর্ডের এক সদস্য বলেন, 'আদালতের রুল জারি থাকা অবস্থায় পদোন্নতি দেওয়া হলে সেটি অবৈধ হবে।

পাশাপাশি আদালত অবমাননার শামিল হবে।' বোর্ডের এক্সপার্ট অধ্যাপক আলী আক্কাস বলেন, 'আদালত রুল জারি করেছেন কিনা সেটি অফিসিয়ালি জানি না।'
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, 'অন্যান্য ফাইলের মতো এই শিক্ষকের ফাইলও আমার কাছে এসেছিল। আমি সেটি প্রসেস করে দিয়েছি। রোববার বিকেলে একটি চিঠি পেলাম যে, নিয়োগ নিয়ে উচ্চ আদালত রুল জারি করেছিলেন। এটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা, খোঁজখবর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় লিগ্যাল সেলকে জানাতে বলেছি। আইনি বাধা থাকলে বোর্ড বসবে না।'

২০১৮ সালে প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সময় আইন বিভাগে প্রভাষক পদে তিনজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয় দাবি করে রিট করেন নুরুল হুদা। এ ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের একটি অডিও কথোপকথন ফাঁস হলে নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।